Saturday , September 26 2020
Breaking News
Home / খবর / ঢাকা-৫ ও ১৮সহ শূন্য ৪টি আসনে উপ-নির্বাচন

ঢাকা-৫ ও ১৮সহ শূন্য ৪টি আসনে উপ-নির্বাচন

উপ-নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টর : শূন্য হওয়া ৪টি সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন-তা নিয়ে নানা হিসাব কষছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। তাদের চিন্তাভাবনায় এসব আসনের প্রয়াত এমপিদের পরিবারের সদস্যদের মনোনীত করার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়াও গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত ত্যাগী কয়েকজন নেতাও রয়েছেন। পাশাপাশি আছে বিভিন্ন খাতে বিশেষ অবদান রাখা কয়েকজন তারকা ব্যক্তির নাম। এরইমধ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটি। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই বোর্ড থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সরকারি দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

ঢাকা-৫: ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচন ঘিরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পোস্টার-ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে প্রচারের জন্য
উপ-নির্বাচন
বেছে নিয়েছেন কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর পর এই আসনে তার পরিবারের কাউকে দল বেছে নিতে পারে বলে ধারণা অনেকের। এক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সরব প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল। তিনি ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার পক্ষে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার-ফেস্টুনও লাগানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কেউ মনোনয়ন না পেলে মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের স্ত্রী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের ছোট ভাইয়ের মেয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশির যে কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর অভাব নেই। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, হাজী আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি ও যাত্রাবাড়ীর আর কে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাকিব ভূঁইয়া, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদসহ আরো কয়েকজন মাঠে সক্রিয় মনোনয়নের প্রত্যাশায়। সিরাজগঞ্জ-১ আসনটিতে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনের এমপি। মাঝখানে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের দেয়া মামলার কারণে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি নাসিম। ওই নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজয়ী হন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়। দলের হাইকমান্ড বাবার অবর্তমানে ছেলে তানভীর শাকিলকেই এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবেও কেউ জাতীয় চার নেতার পরিবারের আসন হিসেবে স্বীকৃত এই আসনে মনোনয়ন পেতে খুব একটা আগ্রহী বলে জানা যায়নি। পাবনা-৪: ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলু। তার মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়া আসনটিতে চোখ রয়েছে অনেকেরই। করোনা মহামারীর মধ্যেও তাদের অনেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সক্রিয় মাঠে। কেউ কেউ আবার দলের হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ রাখতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাশীদের মধ্যে স্থানীয়দের চোখে এগিয়ে রয়েছেন প্রয়াত শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা গালিবুর রহমান শরিফ। গালিবের সাথে নৌকার প্রার্থী হতে স্থানীয় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রবিউল আলম বুদু সরদার, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরুসহ বেশ কয়েকজন। এছাড়া সাবেক এমপি পাঞ্চাব আলী বিশ্বাস, মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম রবি, আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানভীর ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাসসহ অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয়। ঢাকা-১৮: রাজধানীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৮ আসনটিতে গত ১২ বছর ধরে এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এরই মধ্যে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মহলে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই। তৈরি পোশাক শিল্প খাতে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা এই আসনে মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর বলে জানা গেছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় আসনে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কোনো নেতাকেই দল বেছে নিতে চায়। এ আসনে নৌকার হাল ধরতে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, আলহাজ হাবিব আহসান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার সক্রিয় আছেন। এছাড়া প্রয়াত সাহারা খাতুনের ভাগ্নে আনিসুর রহমানও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র বলছে, চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে আগামী সেপ্টেম্বর ও দুটি আসনে নভেম্বরে ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে’ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আসন চারটিতে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন, সে বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগেও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। তবে চার আসনের মধ্যে সাহারা খাতুনের ঢাকা-১৮ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে হাইকমান্ডের গুডবুকে এগিয়ে রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। বাকি তিন আসনে পরিবারের মধ্যে থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো সদস্যকেই হয়তো বেছে নেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার ক্ষমতায় থাকা সরকারি দল আওয়ামী লীগ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে শঙ্কা ছিল। তবে এর মধ্যে বগুড়া ও যশোরের উপ-নির্বাচন আয়োজন করেছে ইসি। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর সরাসরি বলেই দিয়েছেন, আগামী ২৩ বা ২৪ আগস্ট ঢাকা-১৮ ও পাবনা-৪ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটগ্রহণের তারিখ হবে সেপ্টেম্বরে। আর ইসি সূত্র বলছে, ঢাকা-৫ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচন নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই ‘ডেটলাইন’ মাথায় রেখেই প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্র জানায়, সংসদীয় চারটি আসনেই দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা সংসদ সদস্য ছিলেন, দলের দুর্দিনে যাদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের ‘প্রোফাইল’ মাথায় রেখে সার্বিক বিবেচনায় নির্ধারণ করে উত্তরসূরি প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে। ইসি তফসিল ঘোষণা করলে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড দলীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে যারা যোগ্য ও জনপ্রিয়, যারা দলের জন্য নিবেদিত, তাদের এসব উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে নেই। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেই বন্যার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সবকিছু সামাল দিয়েই আমরা দলীয় সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আগস্ট মাস শেষে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার গতি আরো বাড়বে। ওই সময় সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শূন্য সংসদীয় আসনে মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ফলে কোনো আসনে কে মনোনয়ন পাবেন আর কে পাবেন না এটা এখনই বলা যাবে না। একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। তিনি বলেন, দলীয় ফোরামে গ্রহণযোগ্য,ত্যাগ-তিতিক্ষায় পরীক্ষিত, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারী বিবেচনায় রেখে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক এখনো হয়নি। বৈঠক হলে সাংগঠনিক অনেক বিষয়েই সিদ্ধান্ত হবে।

 

 

 

 

Check Also

উপ নির্বাচনে

গাংনীর ধানখোলা ইউপির ২নং ওয়ার্ডের উপ নির্বাচনে জাকির হোসেনের জনপ্রিয়তা শীর্ষে

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম   মেহেরপুর  : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউপির ২ নং ওয়ার্ড এর সদস্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *