Sunday , September 27 2020
Breaking News
Home / খবর / জোয়ারে লক্ষ্মীপুর নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি নতুন করে ভাঙছে মেঘনা

জোয়ারে লক্ষ্মীপুর নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি নতুন করে ভাঙছে মেঘনা

joar

লক্ষ্মীপুর থেকে মো. গাজী গিয়াস উদ্দিন :  কয়েক দিনের বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি। পানি সরতেই নতুন করে ভাঙছে মেঘনা। নদী গর্ভে তলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, বসতভিটা, ফসলি জমিসহ নদীগর্বে হারিয়ে মিলছেনা স্থায়ী ঠিকানা। দ্রুত বেড়ি বাঁধ সংস্কার করে রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় বসবাসকারী লক্ষ্য জনতার স্বপ্নসাধ ও বসত বাড়ি রক্ষা করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এদিকে স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে গত কয়েক দিনে নদীতে প্রায় ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বুধবার বিকালে অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরে উপকূলীয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৪০টি গ্রাম জোয়ারে প্লাবিত হতেই পানিতে ডুবে মারা গেছে কমলনগর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর পোল্ট্রি খামারের সাড়ে ৫ হাজার মুরগী। এছাড়া কয়েকদিনে অস্বাভাবিক জোয়ারে পানি প্রবেশ করে হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে জোয়ারে ভেসে গেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন, রামগতি, কমলনগর, রায়পুরসহ চারটি উপজেলায় অর্ধকোটি টাকার মাছ। বেশে গেছে মাছের ঘেরসহ পুকুর ও ডোবার মাছ।

joar
সেই পানি সরতেই রাস্তাঘাট ভেঙে এখন নতুন করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন এলাকাসহ রামগতি উপজেলার বালুরচর, সুজন গ্রাম,বাংলা বাজার, আসলপাড়া, আলেকজান্ডার ইউনিয়ন সোনালী গ্রামসহ কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, চর ফলকন, সাহেবের হাট, পাটোয়ারীর হাট এলাকা ভাঙছে মেঘনায়। ক’দিন আগেও বসতভিটায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাস করতো তারা। মেঘনার ছোবলে একদিনে তছনছ হয়ে যায় তাদের সহায় সম্বল। এখন কোন রকমে খুপড়ি ঘরের চালাগুলো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রাখাসহ থাকতে হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। তাও যাচ্ছে ভেঙে। দিনাতিপাত করছে অসহায় মানুষগুলো। এরকম দু’শ বেশি পরিবারের জীবন উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়। জীবিকা উপার্জনের শেষ সম্বল ভিটে বাড়ি আর ফসলি জমিও কেড়ে নিয়েছে মেঘনা। এ ব্যাপারে কথা হয় ৫০ বছরের বয়সী রামগতি বাসিন্দা সুজন গ্রামের ফুলজান বিবির সাথে। জানান, কয়েক বার বসতঘর ভেঙেছে মেঘনা। এ বার ভাঙ্গনে জুটে ছিল আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় তাও গেছে ভেঙে। এখন ঠিকানা নেই রাত কাটে রাস্তার পাশে খুপড়ি ঘরে। সরকারি ত্রাণসহায়তার কথা শুনেছেন, তবে বাস্ততা দেখা হয়ে ওঠেনি তার। দেখা মিলে একই সড়কে বসবাসরত ৮০ বছরের ওসিউল মিয়ার সাথে তিনি হয়তো স্থানীয় সংসদ সদস্যকে পেলে বলতেন আক্ষেপের কথা। এক বছর পরও সংসদ সদস্যের দেখা না পেয়ে শুনতে হলো ওসিউল্যার ওসিয়তি কথা। তিনি বলছেন, আনগো বড় বড় নেতারা আছে তারা আনগো দিকে একানা চায়না। আজ আমরা সাগরে বাসি। আগে এলাকায় মোটামুটি অবস্থাপন্ন একটি পরিবারে ছিলাম। ভাঙনে নদী নিঃস্ব করেছে কয়েকবারের। এখন আমাদের যে পরিস্থিতি,আগে আমরা দুই ডলা-ভাত ভালোভাবেই খেতাম। এখন আমাদের খাওয়া দাওয়াই মুশকিল। বলতে গেলে পথের ভিখারি।
joar
‘রামগতি বাঁধের পাশের বাসিন্দা ছালেহা বেগম জানান, তিন বছর আগে ভিটেমাটি হারা হন তিনি। আশ্রয় নেন চরগাসিয়া এলাকায়। এক বছরের ব্যবধানে সেই আশ্রয়টিও কেড়ে নেয় মেঘনা। চলে আসতে হয় বয়ারচরে। দুই বছরের মাথায় আবারও ভাঙনের মুখে পড়েছেন। জেলে পরিবারের স্বামী ও চার সন্তান নিয়ে পরবর্তী যাত্রা কি হবে কোথায় হবে ঠিকানা এখন শুধু অনিশ্চিত! আর এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের দলীয় সাংসদ না হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারের উন্নয়নে কোন কাজ করেননি। দলীয় সংসদ সদস্য হলে হয়তো এ এলাকার মানুষের খবর রাখতেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম বলেন, পুরো বয়ারচর এবং এর আশপাশে প্রায় তিন লাখ লোকের বসবাস। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়বে এ সকল লোকের উপর। কেউ ভিটে মাটি হারা হবে, আবার কারো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাঁধটি ভেঙে গেলে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, বয়ারচরের বাসিন্দারা দুই জেলার বিতর্কিত সীমান্তে হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন তাদের দিকে নজর দিচ্ছে না। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এতে সবুজ বেষ্টনি ঘেরা বয়ারচর রক্ষা বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে ভিটেমাটি হারাচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙন আতঙ্কে আছে কয়েকশ পরিবার। তিনি আরও বলেন, বাঁধটি মেরামতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এ এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার রামগতির। টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে সিসি বস্নক দিয়ে বাঁধটি মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সাংসদ মেজর (অব:) আবদুল মান্নানের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। এদিকে আলেকজান্ডার ইউনিয়ন রক্ষা মঞ্চ আহ্বায়ক ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মো,আনোয়ার হোসেন জানান,লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে তারা রামগতি উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মোমিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোড উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এম.এম.জাহাঙ্গীর জানান, জরুরি ভিত্তিতে রামগতির কয়েকস্থানে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে। এছাড়া ভাঙন প্রতিরোধে ৩১ কিলোমিটারের জন্য ৩২শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি একনেকে অনুমোদন পেলে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এর সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জোয়ারে লক্ষ্মীপুর

জোয়ারে লক্ষ্মীপুর নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি নতুন করে ভাঙছে মেঘনা 

Check Also

স্টাফরিপোটার

মেহেরপুরে স্কাউটসের ত্রৈ-বাষিক কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন

ছবি=স্টাফরিপোটার  স্টাফরিপোটার  : বাংলাদেশ স্কাউটস, মেহেরপুর সদর উপজেলার ত্রৈ-বার্ষিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *