Friday , August 14 2020
Breaking News
Home / খবর / কোরবানির ঈদ ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট কারবারিরা

কোরবানির ঈদ ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট কারবারিরা

ed

স্টাফরিপোটার :   কোরবানির ঈদ ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট কারবারিরা। সারা বছরই এ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে জাল নোটের ব্যবসা করে আসছে। তবে দুই ঈদে এই চক্রের সদস্যরা বেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। কোরবানির পশুর হাটের মৌসুমি ব্যাপারিরা এ চক্রের হাতে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হন। জাল নোট কারবারিদের কোরবানির পশুর হাট, শপিংমল ও অন্যান্য জায়গায় এই জাল নোট ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার পশুর অনলাইন হাটকে জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ১৭টি অস্থায়ী পশুরহাট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬টি হাট বসেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসছে পশুরহাট। এসব হাটকে কেন্দ্র করে এক দল অসাধু চক্র জাল টাকা ছড়াতে পারে এমন চিন্তা থেকে হাটগুলোতে টাকা গণনা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করবে র‌্যাব ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে (২০১৯ ও ২০২০ সালের ছয় মাস) ১৬ হাজার ৯৯১টি জাল নোট ধরা পড়েছে। যার পরিমাণ ১ কোটি ৪১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে এক হাজার টাকার জাল নোটই রয়েছে ১২ হাজার ৪৫০টি। টাকার অঙ্কে যা ১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৫০০ টাকার ৩ হাজার ৩১৮টি বা ১৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১০০ টাকার ১৫৩টি নোট বা ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং ৫০ টাকার ৬২৯টি নোট বা ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা ধরা পড়ে। চলতি বছরের মাত্র ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত) ১ হাজার ২৩১টি জাল নোট ধরা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার টাকার নোটই ৭৪৯টি। বাকিগুলো ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট। এ সময় ৪৮টি ঘটনায় মামলা করা হয়। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০১৯ সালে ১৫ হাজার ৭৬০টি জাল নোট ধরা পড়ে। যার ১১ হাজার ৭০১টিই ১ হাজার টাকার নোট। বাকিগুলো ৫০০, ১০০ ও ৫০ টাকার নোট ছিল। এ সময় মামলা করা হয় ১৭৫টি।
জাল নোট
এদিকে গত এক মাসেই সাড়ে ৪ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জুলাই পুরান ঢাকার বংশাল ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকার জাল নোট এবং তা তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার আগে ৩০ জুন মিরপুর ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসা থেকে ৪ কোটি টাকার জাল নোটসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। এছাড়া ২০ জুলাই রাজধানীর বড় মগবাজার ও ২৩ জুলাই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পূর্বপাড়া থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দশকে সারা দেশে জাল নোট সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৮ হাজার ৩৬৬টি। অনেক মামলা নিষ্পত্তি হলেও এখনও ২ হাজারের বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জাল নোটের মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাক্ষী আদালতে আসেন না। আবার এলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করেন। এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তারা। এক পর্যায়ে আসামি পার পেয়ে আবারও একই অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
জাল নোট
সূত্র জানায়, জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন, ২০২০-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই খসড়ার ওপর এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অংশীজনের মতামত নিচ্ছে। খসড়া আইনে শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত বেশি নকল মুদ্রা তৈরি বা সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার দ- তত বেশি হবে। যে কোনো মূল্যের ১০০টির কম জাল মুদ্রা পাওয়া গেলে দুই বছর কারাদ- বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- হবে। এতে বলা হয়েছে, জাল মুদ্রা প্রস্তুত, ধারণ, বহন, সরবরাহ, আমদানি-রফতানি এবং মুদ্রা প্রস্তুতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সম্পর্কে তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকার থেকে পুরস্কৃত করা হবে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এখন থেকে জাল নোট বিষয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মামলা করতে পারবে। এতদিন শুধু পুলিশ জাল মুদ্রার মামলা করতে পারত। আবার কারও কাছে জাল মুদ্রা থাকলেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। ওই জাল মুদ্রার বাহক আত্মপক্ষ সমর্থন বা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পাবেন। বাহক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি সরল বিশ্বাসে ওই মুদ্রা বহন এবং বৈধ লেনদেনের অংশ হিসেবে ধারণ করেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না। তবে জাল মুদ্রার বাহক কোথা থেকে তা পেয়েছেন, তা প্রমাণ করতে হবে। অবশ্যই এক্ষেত্রে জাল মুদ্রার সংখ্যা দশ পিসের কম হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এতদিন সিভিল পেনালকোড অনুযায়ী জাল নোটের অপরাধীদের বিচার হতো। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল যার কাছে জাল নোট পাওয়া যেত, তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হতো। এজন্য প্রস্তাবিত আইনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান বলেন, বছরে প্রত্যেক ব্যাংকে গড়ে ৪০০-৫০০টি জাল নোট ধরা পড়ে। আমি যখন এমডি ছিলাম তখন এমন চিত্র ছিল। এখন কমবেশি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন টাকা বাজারে এলেই জাল নোটের কারবারিদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও সক্রিয় থাকে জাল নোটের কারবারিরা। এর কারণ বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যায় তারা। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, জাল নোটের কারবারিরা উৎসব কেন্দ্রিক সক্রিয় হয়ে যায়। আসন্ন কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে এই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে র‌্যাবের কয়েকটি সফল অভিযানে জাল নোট উদ্ধার এবং জাল নোট তৈরির যন্ত্রপাতি জব্দ করে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে সব এলাকায় ফ্ল্যাটে বা বাড়িতে বসে জাল নোট তৈরি করে সেসব এলাকায় র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তারপরও হাটগুলোতে র‌্যাবের টহল রয়েছে। হাটে জাল নোট চিহ্নিত করার যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমান (ডিসি) গণমাধ্যমকে বলেন, জাল নোটের কারবারিরা এখন অনেক চালাক হয়ে গেছে। ঈদ আসলে এখন আর আগের মতো ঢাকার ভেতরে থাকে না। তারা ঢাকার বাইরে জাল নোট তৈরির কাজ করে, যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের কাজ করতে পারে। তারা এখন ঢাকার বাইরে থেকে তাদের কাজ চালাতে তৎপর রয়েছে। ঈদে জাল টাকার ছড়াছড়ির বেশি সুযোগ পায় বলে তারা ঢাকার বাইরে থেকে কাজ করে তাদের লোকদের নিয়ে টাকাগুলো বাজারে ছড়িয়ে দেয়, বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এসব বিষয় মাথায় নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশও সেইভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের যে অঞ্চলেই তারা কাজ করুক না কেন তাদের ধরতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি। আমাদের বিভিন্ন টিম এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

জাল নোট

Check Also

মোল্লাহাটে

মোল্লাহাটে সাবেক স্ত্রী’র চাচাতো ভাইকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

    মিয়া পারভেজ আলম   মোল্লাহাট প্রতিনিধি :    বাগেরহাটের মোলস্নাহাটে সাবেক স্ত্রীর চাচাতো ভাইকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *