Friday , August 14 2020
Breaking News
Home / খবর / চাঁদপুরে মেঘনার পানি বিপদ বিপদসীমার উপরে

চাঁদপুরে মেঘনার পানি বিপদ বিপদসীমার উপরে

মেঘনার পানি

চাঁদপুর থেকে মিজানুর রহমান:

 

চাঁদপুরে মেঘনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। নদীর তীরবর্তী দুই পাড়ের চরাঞ্চলসহ হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যে জানা গেছে। সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছে পানিবন্দি মানুষ। রয়েছে গবাদিপশুর খাবারের সংকটও। সান্ধ্যকালীন জোয়ারে মেঘনার পানি বিপদসীমার .৬১ সেঃমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি, হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে মানুষ হচ্ছে নিঃস্ব। নদীপাড়ের প্রবীণ লোকদের অনেকেই জানান,

তাদের এলাকায় এমন ভয়াবহ ভাঙন ইতিপূর্বে দেখেননি তারা। নদীর ভাঙনে গত এক মাসে হাইমচর চর এলাকার ৫টি নদী ভাঙনের কবলে বিলীন হয়েছে। চাঁদপুর সদরের হানারচর, ইব্রাহিমপুর, আলু বাজার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে নিয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙন পরিস্থিতি রাজরাজেশ্বরে। লক্ষীরচর, জাহাজমারা গ্রাম নিশ্চিহ্ন। পদ্মার ভাঙনে অবশেষে বিলীন হয়ে গেছে নবনির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট রাজরাজেশ্বর ওমর আলী হাই স্কুল ও সাইক্লোন শেল্টার। ২৩ জুলাই দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি নদীর ভাঙনের মুখে বেশ কিছুদিন দাঁড়িয়ে থাকার পর, সেটি আর রক্ষা পায়নি। অপরদিকে, সন্ধ্যাকালীন জোয়ারে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুর শহরের অনেক জায়গার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু সড়ক, কলেজ রোড, বেগম মসজিদ সিএসবি খালের রাস্তা, রহমতপুর কলোনী, বড় স্টেশন মাদ্রাসা রোড,পুরান বাজার কলেজ, মৈশালবাড়ি রাস্তাসহ শহরের অনেক রাস্তায় জোয়ারের পানি থৈ থৈ করছে।

ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী জানান, তার ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। একমাত্র সাইক্লোন শেল্টারটিও ভাঙনে রক্ষা পেল না।

ওমর আলী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউল্লাহ জানান, তাদের স্কুলটি এই নিয়ে আটবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। স্কুলটি চর এলাকার যেখানে স্থানান্তরিত হয়, বছর না ঘুরতেই নদী ভাঙনে আবার বিলীন হয়ে যায়। হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারি জানান, তাঁর উপজেলার হাইমচর, নীলকমল ও গাজীপুর এ তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে ভাঙছে। মধ্যচরে নদী ভাংগনের ব্যাপকতায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্দ্দিষ্ট করা জায়গাটিও এখন হুমকির মুখে। ভাঙন রক্ষায় সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা জরুরি।

তিনি আরো জানান, হাইমচর উপজেলা নদী বেষ্টিত। মেঘনার পানি জোয়ারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পঞ্চাশ মানুষের বাড়ি করে পানি উঠলেও ভাটায় আবার নেমে যায়।

চাঁদপুর সদর ১২ নং চন্দ্রা ইউপি চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু পাটোয়ারী জানান, তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী বাখরপুর ও দক্ষিণ বালিয়া গ্রামের প্রায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি। রাস্তাঘাটের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ফসলি জমি পানির নিচে। বিষয়টি তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাবুল আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার মেঘনার পানি সান্ধ্যকালীন জোয়ারে ৪.৬১ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। তিনি আরো জানান, শহর রক্ষা বাঁধ মোটামুটি অবস্থানে রয়েছে। জরুরিভিত্তিতে কাজ করার জন্য চার হাজার বালুভর্তি বস্তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঈদের আগে শহর রক্ষা বাঁধের মোলহেড ও পুরানবাজার অংশে কিছু বালুবস্তা ডাম্পিং করা হবে।

তিনি আরো জানান, চাঁদপুর সদরের হানারচর, রাজরাজেশ্বর ইব্রাহিমপুর আলু ভাজা হাইমচরের মাঝেরচর ঈশানবালা নদী ভাঙন রয়েছে। এদিকে, মেঘনা-ধনাগোদা পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ধনাগোদা নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এখানে পানির ডেঞ্জার লেভেল অতিক্রম করেনি। গত পরশু দিন আমরা পুরো এলাকা ঘুরে দেখেছি, কোথাও সমস্যা হয়নি। বেড়িবাঁধের বাহিরে এবং চরাঞ্চলের অনেক গ্রামে পানি উঠেছে।

মেঘনার পানি

Check Also

মোল্লাহাটে

মোল্লাহাটে সাবেক স্ত্রী’র চাচাতো ভাইকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

    মিয়া পারভেজ আলম   মোল্লাহাট প্রতিনিধি :    বাগেরহাটের মোলস্নাহাটে সাবেক স্ত্রীর চাচাতো ভাইকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *