Tuesday , August 4 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আইন ও বিচার / বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে “অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক

বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে “অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক

 

drsa

স্টাফ রিপোর্টার:   জেকেজি হেলথ কেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন। গ্রেফতারের পর সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্যই পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে আদালতে হাজির করলে মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তাকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার কমিশনের সভায় সংস্থাটির বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগকে এই অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুদকের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে
জানা গেছে, করোনার ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহ করে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ সাবরিনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের

বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহপূর্বক ১৫,৪৬০টি ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহ করেছেন তিনি। এর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম, ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন্ উৎস থেকে সাবরিনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সংগ্রহ করে। এসব তথ্য-উপাত্ত সংবলিত অভিযোগসমূহ কমিশনের দৈনিক ও সামপ্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রোববার জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রতারণার ঘটনায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফ গ্রেফতার করে পুলিশ। করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে সাবরিনার স্বামী আরিফ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় তেজগাঁও থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) হাসনাত খন্দকার ডা. সাবরিনার ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে আদালতে হাজির করার পর মহানগর হাকিম মো. শাহিনুর রহমান ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. সাবরিনা সরাসরি জাল কোভিড-১৯ পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সুতরাং, বিষয়টি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেতে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে তাকে রিমান্ডে নেয়া দরকার। এক প্রশ্নের জবাবে ডা. সাবরিনা আদালতকে জানিয়েছিলেন যে তিনি আর জেকেজির চেয়ারম্যান নেই এবং এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তিনি তার জামিন মঞ্জুর করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান জানান, ডা. সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। পরে মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে বিয়ের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাবরিনা শারমিন হুসাইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ওরফে ডা. সাবরিনা চৌধুরী। দুজনে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ঠিকাদারি কাজ পেতে নানামুখী তদবির করেন সাবরিনা। এক্ষেত্রে সাবরিনা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর কয়েকজন নেতাকে কাজে লাগান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা ডা. সাবরিনা জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীর চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন। আরিফের প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিয়া ও লন্ডনে থাকেন। তৃতীয় স্ত্রীর সাথে তালাক হয়েছে তার। তবে ছাড়াছাড়ির পরও সাবেক ওই স্ত্রী উচ্চমহলে আরিফের জন্য দেনদরবার করে যাচ্ছেন। চতুর্থ স্ত্রী ডা. সাবরিনার কারণেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্ট করলেও তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের এক চিকিৎসককে মারধর করেন আরিফ চৌধুরী। পরে এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেন ডা. সাবরিনা। গত ৪ জুন এ জিডি করা হয়। দুই মাস আগে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সাবরিনা দাবি করেন। কিন্তু আরিফুল গ্রেফতার হওয়ার পর করোনা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পরই স্বামীকে তড়িঘড়ি তালাক নোটিস পাঠান সাবরিনা।
বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে
সাবরিনার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। তার বাবা সাবেক সচিব সৈয়দ মোশাররফ হোসেন। তিনি ঢাকার শ্যামলীর পিসি কালচার রোডের নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তার দুই মেয়ের মধ্যে ডা. সাবরিনা বড়। সাবরিনা ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি ও পরে এইচএসসি পাস করেন। এরপর এমবিবিএস পাস করেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে। তবে সাবরিনার প্রথম স্বামীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি টেলিফোন সেবা সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। সাবরিনা ২৭তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চাকরি পাওয়ার পর তার প্রথম পোস্টিং হয় দিনাজপুরে। বদলি হয়ে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে যোগ দেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

গত রোববার দুপুরে সাবরিনাকে হাসপাতাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তেজগাঁও থানার এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে এক ভুক্তভোগীর করা ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন সাবরিনার স্বামী আরিফুলও। জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার, সংক্ষেপে জেকেজির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথ কেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল এবং নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ দিত। এ বিষয়ে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বাড়ির কেয়ারটেকারের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২২ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুলকেও গ্রেফতার করা হয়। জেকেজি হেলথ কেয়ারের নমুনা সংগ্রহের যে অনুমোদন ছিল, তাও ২৪ জুন বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে
নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর নমুনা পরীক্ষার জন্য জেকেজি হেলথ কেয়ারকে দায়িত্ব দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। তখন এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. সাবরিনার কথাই বলা হতো। কিন্তু জুনের শেষ দিকে জেকেজির দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দাবি করেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই মাস ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই। গত রোববার তাকে গ্রেফতার করার পর তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, সাবরিনা যে জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান ওভাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন সে ব্যাপারে কিছু তথ্য প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আরো কিছু জোগাড় করার চেষ্টা চলছে। রিমান্ডে নেয়া হলে সব জানা যাবে।বেপরোয়া সাবরিনা রিমান্ডে

Check Also

গাংনীতে প্রেমিকার সাথে

গাংনীতে প্রেমিকার সাথে অভিমানে সেনা সদস্য’র বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম : মেহেরপুরের গাংনীতে প্রেমিকার সাখে অভিমানে এক সেনা সদস্য বিষপানে আত্মহত্যার অপচেষ্টা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *