Tuesday , August 11 2020
Breaking News
Home / খবর / উজানে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে বন্যা

উজানে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে বন্যা

ডায়রিয়ায়

স্টাফ রিপোর্টার:    উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তার বামতীরে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবারের প্রায় ৭০ হাজার লোকজনের দুর্ভোগ বেড়েছে।

ugi
জানা গেছে, তিস্তা নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় উজানের সামান্য ঢলেই তিস্তার দুই তীর প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েক হাজার পরিবার। গত শুক্রবার সকাল থেকে উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢলের মাত্রা বেড়ে যায়। একইসঙ্গে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট ডুবে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। চৌকি/খাটের উপর মাচাং বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পানিবন্দি পরিবারের মানুষগুলো। কেউ কেউ ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ বা পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। খুব কষ্টে পড়েছেন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা। গবাদি পশু-পাখি নিয়েও চরম বিপাকে পানিবন্দি পরিবারগুলো। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়।

তিস্তার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জেগে ওঠা চরে বাদাম ও ভুট্টাসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করত চরাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই গবাদি পশু পালন ও মাছ চাষ করেও সংসারের চাকা সচল রেখেছেন। গত এক মাস ধরে থেমে থেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের চাষিদের উঠতি ফসলের খেত বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ভেসে যায় শত শত পুকুরের মাছ। বিশেষ করে বাদাম খেতে অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে চলমান বন্যায়। চরাঞ্চলের সব থেকে লাভবান ফসল বাদাম, এ বছর বন্যায় ডুবে যাওয়ায় ঘরে তুলতে পারেননি চাষিরা। কেউ কেউ পানিতে ডুবে ডুবে বাদাম সংগ্রহ করলেও তা পানি পাওয়ায় অঙ্কুরোদগম ঘটছে। ফলে চাষের খরচ তোলা নিয়েও শঙ্কায় চাষিরা। ভুট্টা খেতেও একই অবস্থা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাতেও অঙ্কুরোদগম ঘটছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, তিস্তার তলদেশ ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই এ জেলায় বন্যা দেখা দেয়। তাই নদী খনন করে দুই তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। একনেকে অনুমোদন হলেই লালমনিরহাটবাসী বন্যা থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাবে। চলমান বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ত্রাণ সহায়তা অনুভব করলে আমরা পৌঁছে দেব। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কুড়িগ্রামে
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র ডালিয়া শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, এ বারের বন্যা একটু স্থায়ী হতে পারে। ফলে কয়েক দিন তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, আবারও বন্যার কবলে পড়েছে সুনামগঞ্জ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সহিবুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে। ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে জেলাজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকার বাসিন্দারা। সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা মিনা রাণী দাস বলেন, ঘরে চাল নেই, চুলাও ডুবে গেছে। চুলা মেরামত করার মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না। লাকড়িও পাচ্ছি না। কী যে করি! কোথায় যাই! সকালে বাচ্চাদের রুটি দিয়েছিলাম। দুপুরে, রাতে কী খাওয়াবো জানি না। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর ১২টি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অপরদিকে, জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনায় ১৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিকেল ৩টায় বাহাদুরাবাদ ঘাটে বিপদসীমায় পৌঁছে গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়ে বিপদসীমার নিচে চলে যায় যমুনার পানি। কিন্তু গত তিন দিন ধরে উজানে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত পানি বেড়ে বিপদসীমায় চলে এসেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়লেও এখনো ১২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, ভারতে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুতই যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী এই বৃষ্টিপাত আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ফলে যমুনার পানি বৃদ্ধি আরও চার থেকে পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। এতে করে ১ম দফা বন্যার মতোই পানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানায়, কুড়িগ্রামে অস্বাভাবিকভাবে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা ও তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত গতিতে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও। এ অবস্থায় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী জেলার বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলছে জরুরি সভাও। প্রথম দফা বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চরাঞ্চলসহ নদ-নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষজন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে বলেও জানান তিনি। ধরলা ও তিস্তা নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে বলেও জানান তিনি।
বন্যা
এদিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদ-নদীর অববাহিকার নিম্ন্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সেসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন। প্রথম দফা বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই আবারো বন্যার কবলে পড়লে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাদের। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান স্যার উপস্থিত ছিলেন। ইতোমধ্যে আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা জরুরি সভায় জেলা ও সকল উপজেলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে প্রস্তুত করে রেখেছি। বন্যায় যখন যা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে তাই করা হবে।

সোনাতলায়

Check Also

পেট্রোলের মান

রিফাইনারিগুলো যন্ত্রপাতি আপগ্রেড না করে পেট্রোলের মান কমাতে চাচ্ছে

Kbdews ডেস্ক :  দেশের জ্বালানি তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলো নিজেদের যন্ত্রপাতি আপগ্রেড না করে পেট্রোলের মান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *