Thursday , July 2 2020
Breaking News
Home / খবর / বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

sonsod

সংসদ রিপোর্টার  :  বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে। তাই দেশ ও জাতি একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী একই সমস্যা। তবে দেশের সব ধরনের মানুষ যাতে উপকৃত হয়, এজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এজন্য ইতোমধ্যে ১৯টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের যাবতীয় ব্যবস্থাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বলেন, এই প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারির হাত থেকে দেশবাসী ও বিশ্ববাসী যেন মুক্তি পান। চিকিৎসাধীনরা যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

করোনা মোকাবিলায় আরো চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরো দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা আরো চার হাজার নার্স নিয়োগ দেবো। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে দিয়েছি। শিগগিরই এই নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের গতিধারা বজায় রাখতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অব্যাহত থাকবে। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়া বাবদ ২০ কোটি টাকা খরচে বিষ্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরতো একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। করোনা সবকিছুকে স্থবির করে রেখেছে। কিন্তু আমরা সবসময় আশাবাদী, এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটবে। তবে উত্তরণ ঘটলে আমরা আগামীতে কি করবো? সে বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি থাকা দরকার বলে আমি মনে করি। সেজন্যই আমরা উচ্চাবিলাসী বাজেট দিয়েছি। আশা করি এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। এ সময় তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে অর্থনীতির উৎপাদন ব্যাহত হলেও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর কোনও ক্ষতি হয়নি। এছাড়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে সকল চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থকর্মীদের থাকা খাওয়া যাওয়া আসা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে বহন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই খরচ যে ২০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে সেটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। যে সঙ্কটই আসুক না কেনো আওয়ামী লীগ তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে এবং দেশের মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেবে না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি কীভাবে মানুষকে সুরক্ষা দেয়া যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বার বার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সেইসঙ্গে অপরকে সুরক্ষা দেয়া-এটা প্রত্যেকের দায়িত্ব। আশা করি, সবাই এটা পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে প্রাক্কলন দিয়েছে। করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ১৯ কোটি ৫০ লাখ কর্মীর চাকরি হরাস, বৈশ্বিক এফডিআই প্রবাহ ৫ থেকে ১৫ শতাংশ হরাস এবং বৈশ্বিক রেমিট্যান্স ২০ শতাংশ হরাস পাবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আমরা একটি বাজেট প্রণয়ন করেছি। এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কঠিন ও দুরুহ কাজ ছিল। এই বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের ধন্যবাদ জানাই।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জীবন জীবিকা রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, অনেকে বলছেন বাজেট একটু বেশি, আমরা খুব বেশি আশাবাদী, হ্যানো ত্যানো। সব সময় আমাদের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। কোভিড-১৯ এর জন্য সবকিছু স্থবির। আমরা আশাকরি, সব সময় আমরা আশাবাদী যে, না এই অবস্থা থাকবে না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটবে। যদি হঠাৎ উত্তরণ ঘটে আগামীতে আমরা কি করব সেটা চিন্তা করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, এরইমধ্যে আমরা প্রায় এক লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। এইপ্যাকেজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত যখন হবে তখন ১২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ সুবিধা পাবে। এছাড়া প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ কর্মসুরক্ষা ও নতুন কর্মসৃজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থ বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ অর্জন করব বলে নির্ধারিণ করেছিলাম। তবে প্রথম ৮ মাসে আমরা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন করেছিলাম। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সেটা কমে যায় এবং সংশোধন করতে বাধ্য হই। যেটা ৫ দশমিক ২ শতাংশ ধার্য করেছি। আমরা আশা করি ২০২১ সালে বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কোভিড-১৯ এর প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে ধরে নিয়ে আগামী ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময় নিম্নমূল্য স্থিতি ধরে রাখার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রাক্কলনের যে অনুমানসমূহ বিবেচনা করা হয়েছে তা তুলে ধরেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, (ক) করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবেআমাদের উৎপাদন ব্যাহত হলেও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর কোন ক্ষতি হয় নাই। যা প্রাকৃতি দুর্যোগ বা যুদ্ধের সময় সাধারণত হয়ে থাকে। (খ) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কর্মসৃজন ও ব্যক্তি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে এবং প্রণোদনা প্যাকেজ সমূহ সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মহামারীর পূর্ব অবস্থায় চলে আসবে। (গ) অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা বাজারে চলে আসলে ইউরোপ আমেরিকায় জীবন যাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে আমাদের রপ্তানী আয় কোভিড-১৯ পূর্ববর্তি অবস্থায় আবার ফিরে যাবে। (ঘ) বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য খুব কমে গিয়েছিল কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশাবাদী এরফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রবাস আয়ের বর্তমান সংকটও কেটে যাবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আমরা ৪টি কৌশলগত কর্মপন্থা ঠিক করেছি। তা হচ্ছে (ক) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করণ, কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়া বিলাসী ব্যয় নিরুসাহিত করা এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় পিছিয়ে দেয়া। (খ) আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রণয়ন। (গ) সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি করণ, (ঘ) বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

সকল বাধা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে অতীতে আমরা ব্যর্থ হয়নি, ভবিষ্যতেও হবো না। সামনে যতই সঙ্কট আসুক, অওয়ামী লীগ সরকার শক্তহাতে তা মোকাবেলা করবে। যতই বাধা আসুক তা মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের কোন মানুষকে আমরা অভুক্ত থাকতে দেব না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে, এ ব্যাপারে কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। দুর্নীতির মুলোৎপাটন করেই আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সাধারণ ছুটির মধ্যে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাজেট প্রণয়ন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এটি দ্বিতীয় বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকার এ পর্যন্ত ২০টি বাজেট দিয়েছে। বাজেটে আমরা স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা এগুলোতে জোর দিয়েছি। অতীতের মতো এই বাজেটও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Check Also

করোনা সুরক্ষা

খুলনায় নিম্ন মানের করোনা সুরক্ষা সামগ্রীতে সয়লাব : অভিযান নেই প্রশাসনের

বি এম রাকিব হাসান :    করোনা আতংক সর্বত্র। যার ফলে মানুষ সচেতন হওয়ার জন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *