Thursday , August 13 2020
Breaking News
Home / খবর / ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ভয়াল রূপ নিয়েছে

ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ভয়াল রূপ নিয়েছে

 

ুুু
ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ভয়াল রূপ নিয়েছে

 

স্টাফরিপোটর:   দেশে বন্যা পরিস্থিতি, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনাজপুর বা কুড়িগ্রামের অনেক জায়গায় স্থানীয়রা বলছেন তারা জীবনে এরকম দুর্যোগের মুখোমুখি হননি। অনেকগুলো জেলায় রাস্তা, রেললাইন ঢুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপদ্রুত লাখ লাখ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও উঁচু জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
borsa
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে মোট ৫টি নদ-নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের ৭৮টি পয়েন্টে জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র মতে, বর্তমানে ধরলা, তিস্তা, বহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা নদীর জলস্তর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যমুনা নদীর জলস্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
sonamgong
এর মধ্যে রোববার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জানা গেছে, কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ায় সুনামগঞ্জে নদী তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুরে যমুনার পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি কুড়িগ্রাম দিয়ে, তিস্তার পানি লালমনিরহাটে, পদ্মার পানি মুন্সীগঞ্জে ও হাওড়ের পানি সুনামগঞ্জ দিয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এভাবে বন্যা শুরু হতে পারে। এর পর নিচের দিকের জেলাগুলোয় পর্যায়ক্রমে বন্যা হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, দিনাজপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও সুনামগঞ্জে বন্যা হতে পারে। তবে সব জেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে বন্যা হবে, তেমনটা নয়। কোনো না কোনো জেলায় এ সময়ে বন্যার পানি থাকতে পারে। এর মধ্যে পদ্মার পানির তোড় বা স্রোত বেশি থাকতে পারে। এতে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে বন্যার সঙ্গে নদীভাঙনও বাড়তে পারে।
পাহাড়ি ঢল
কুড়িগ্রাম : জেলার ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে ৪৫০টি চর ও দ্বীপচর। এর ফলে সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চিন্তায় পড়েছেন। ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। পাউবো এসডি মাহমুদ হাসান জানান, কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢল
নীলফামারী : তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। নীলফামারীতে গত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নদী অববাহিকার জনপদসহ চরের অসংখ্য ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীতীরবর্তী এলাকার বীজতলা।

গাইবান্ধা : জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পানি বৃদ্ধি আগামী চার দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ফলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর-বালাসীঘাটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই বাঁধভাঙা এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে সাঁতারকান্দির চর ও ভাষারপাড়া এলাকা আকস্মিক বন্যায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ফলে ওই দুটি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ ছাড়া গাইবান্ধা বালাসীঘাট সড়কের বাঁধের পূর্ব অংশের সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জের নদীবেষ্টিত চরগুলোর নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার বসতবাড়ির লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে পাট, পটল, কাঁচামরিচ ও শাকসবজির খেতসহ সদ্য রোপণকৃত বীজতলা তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, জেলার নদ-নদীর পানি গত শনিবার বিকালে এ বছরের সর্বোচ্চ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল রোববার বিকাল ৩টায় সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার এবং পাহাড়ি নদী যাদুকাটার পানি বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় ৯০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি এবং এর আগের ৭২ ঘণ্টায় ২৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এ কারণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ৭.৮ অতিক্রম করে ৮.৪৬ সেন্টিমিটার এবং পাহাড়ি নদী যাদুকাটার পানি বিপদসীমা ৮.৫ অতিক্রম করে ৯.৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতে আরও দুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জ অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় ওপরের পানি নেমে এসে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মনিটরিং করতে জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইসলামপুর : অতিবর্ষণে ও উজানের ঢলে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জামালপুরের ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলার নিম্নাঅঞ্চলের শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার পাট, কাউন, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের খেতে পানি উঠেছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ জানান, যমুনার পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৪.৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

borsa

 

Check Also

ইলিশ

জালে ধরা পড়েনি ইলিশ জেলে মহাজনদের মাথায় হাত

শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান :    ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে গিয়ে অনেকেই ফিরেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *