Thursday , October 1 2020
Breaking News
Home / খবর / স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে” কালো তালিকায় স্বাস্থ্যখাতের ১৪ ঠিকাদার

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে” কালো তালিকায় স্বাস্থ্যখাতের ১৪ ঠিকাদার

kjkhan:  স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। রাজধানী ঢাকার বড় হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর কিংবা জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অভিযোগের ধরন ভিন্ন হলেও সেবা নিয়ে অভিযোগ এন্তার। রাজধানী বা বড় শহরগুলোর সরকারি হাসপাতালে সরকারি ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণের বদলে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কিংবা সেগুলো সরবরাহ না করে বাইরে থেকে কিনতে বলার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু সমপ্রতি সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার সংকটের পাশাপাশি মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ১৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনাকাটায় ১৩১ কোটি টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ আছে। গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক প্রশাসন এই সংক্রান্ত আদেশ স্বাক্ষর করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ছয় মাসের বেশি সময় আগে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর প্রেক্ষিতে গত ৯ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব হাসান মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকায় তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে বলা হয়। অধিদফতরের মহাপরিচালক ছাড়াও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কম্পিউটার সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্টকে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য দেয়া হয়।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি, অনিয়ম ও চক্রান্তের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৪টি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটার ১৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এসব অভিযোগে ২০১৮ এবং ১৯ সালে এদের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা করে দুদক। মামলাগুলো বিচারাধীন আছে। এই ১৪ ঠিকাদারকে চিহ্নিত করে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে

একটি চিঠিতে তালিকা পাঠায় দুদক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুদকের সুপারিশ অনুযায়ী কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও আলোচিত কেরানি আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানমের রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও রূপা ফ্যাশন। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে মেডিকেল সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত এক মামলায় পাঁচ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঙ্বাজার সদর মডেল থানায় করা এক মামলায় সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

পুরানা পল্টনের আবদুস সাত্তার সরকার ও মো. আহসান হাবীবের মালিকানাধীন মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, তোপখানা রোডের জাহেরউদ্দিন সরকারের মালিকানাধীন বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আসাদুর রহমানের মালিকানাধীন ইউনিভার্সেল ট্রেড কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে দুদকের খুলনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের মামলায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছয় কোটি ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

জাহেরউদ্দিন সরকারের মালিকানাধীন বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে রংপুর মেডিকেল কলেজের সাড়ে চার কোটি টাকা ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নামে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে নয় কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক।

এছাড়া চট্টগ্রামে দুর্নীতির অভিযোগে মুন্সী ফররুখ হোসাইনের মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ, বেঙ্গল সাইন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোং ও এর স্বত্বাধিকারী মো. জাহের উদ্দিন সরকার এবং এএসএল ও প্রতিষ্ঠানটির এমডি আফতাব আহমেদকেও কালো তালিকাভুক্ত করতে বলেছিল দুদক।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেনাকাটায় অনিয়মের মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার মিরপুরের আবদুল্লাহ আল মামুনের মালিকানাধীন অনিক ট্রেডার্স ও মুন্সী ফররুখ হোসাইনের মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা রয়েছে। এছাড়া বিনা টেন্ডারে সাড়ে নয় কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রংপুরের মনজুর আহমেদের মালিকানাধীন মেসার্স ম্যানিলা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স এসকে ট্রেডার্স, মোসাদ্দেক হোসেনের মালিকানাধীন এমএইচ ফার্মা, জয়নাল আবেদীনের মালিকানাধীন মেসার্স অভি ড্রাগস, আলমগীর হোসেনের মালিকানাধীন মেসার্স আলবিরা ফার্মেসি ও মো. মিন্টুর মালিকানাধীন এসএম ট্রেডার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়া ঢাকার মোকছেদুল ইসলামের মালিকানাধীন বেয়ার এভিয়েশনের নামে ৭৫ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও মিথ্যা ব্যয় দেখিয়ে ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দিনাজপুরে একটি মামলা রয়েছে।

এদিকে গত ৯ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণসহ ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং দুর্নীতি, প্রতারণা ও চক্রান্তমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধের জন্য ১৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তাদের স্বত্বাধিকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছে দুদক। কমিশনের এ অভিমতের আলোকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ তাদের স্বত্বাধিকারীদের বিরুদ্ধে সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

কিন্তু এদিকে স্বাস্থ্য খাতে মাফিয়া ডন বলে খ্যাত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর দৌরাত্ম্য থামছেই না। তার লাগামহীন দুর্নীতি ও জালিয়াতির তদন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। চার বছর ধরে এ বিষয়ে টুঁ-শব্দটি নেই। এমনকি দুদকের সুপারিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঘোষিত ‘কালো তালিকাভুক্ত ১৪ ঠিকাদারের’ মধ্যেও তার নাম নেই। চুনোপুঁটিদের ‘কালো তালিকায়’ রেখে কার ছত্রছায়ায় বারবার বেঁচে যাচ্ছেন মিঠু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। নির্দিষ্ট সময়ে সম্পদের হিসাব না দেয়ায় ২০১৬ সালে মিঠুর বিরুদ্ধে ‘নন সাবমিশন’ মামলা করেছিল দুদক। স্বাস্থ্য খাতে মিঠুর যাবতীয় কর্মকা- ও তার নামে-বেনামে থাকা ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠিও পাঠানো হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মিঠুকে তার সহায়-সম্পদের বিবরণ দাখিল করতে চিঠি দেয়া হয়েছিল। এরপর রহস্যজনক কারণে তদন্তের ধারাবাহিকতা থেমে যায়। কিন্তু থামেনি মিঠু সিন্ডিকেটের লুটপাটের দৌরাত্ম্য। বরং প্রভাবশালী কর্মকর্তারা তার সিন্ডিকেটের নতুন সদস্য হয়েছেন। এখনো মিঠুর অঙ্গুলি হেলনেই চলছে স্বাস্থ্য খাতের যাবতীয় টেন্ডার, সরবরাহ ও কেনাকাটার কাজ। ২০১৬ সালে বিশ্ব তোলপাড় করা পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি সংশ্লিষ্টতায় বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারকারী হিসেবে যে ৩৪ বাংলাদেশির নাম এসেছিল, এই মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু তাদের একজন। এ কারণে মিঠুর ব্যাপারে দুদকের তথ্যানুসন্ধান ও তদন্তের বিষয়টি শুরুতে বেশ গুরুত্ব পায়। মিঠুকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে সে বিষয়েও তথ্য চায় দুদক। ২০১৬ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে দুদক যে চিঠি পাঠিয়েছিল তাতে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছর থেকে স্বাস্থ্য সেক্টরে বিভিন্ন উন্নয়ন, সেবা খাতে যে সমস্ত কাজ বাস্তবায়ন করেছে, চলমান আছে এবং ওষুধ-মালামাল-যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে সেগুলোর প্রশাসনিক অনুমোদন, বরাদ্দপত্র, প্রাক্কলন-টেন্ডার, কোটেশন, দাখিলকৃত টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যাদেশ, কার্যসমাপ্তি প্রতিবেদনসহ প্রাসঙ্গিক সব রেকর্ডপত্র ২০১৬ সালের ৩০ মের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কয়েক দফা তাগিদ দেয়ার পরও স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এসব রেকর্ড আর দুদককে দেয়া হয়নি। দুদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট শাখার তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক শামিউল ইসলামের কাছেও চিঠি দেয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ না করায় ওই বছরই দ্বিতীয় দফায় সংস্থার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত আর এগোয়নি। বরং চিঠি চালাচালিতে বিষয়টি ধামচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। পরবর্তীতে দুদকও আর মিঠুর বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। ফলে প্রায় চার বছর ধরে তার দুর্নীতির তদন্ত থেমে আছে।

 

Check Also

গাংনীতে লাইসিয়াম

গাংনীতে লাইসিয়াম বিদ্যালয়ে সমস্যা সমাধানে উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম: মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের চৌগাছা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইংলিশ ভার্সন লাইসিয়াম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *