Friday , August 14 2020
Breaking News
Home / আরও... / বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার কিছুকাল পরেই কমে আসতে পারে: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার কিছুকাল পরেই কমে আসতে পারে: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

স্টাফ রিপোর্টার   : বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার কিছুকাল পরেই কমে আসতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশি দিন স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ হারে নাও থাকতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে করোনাভাইরাসের নিয়মিত হেল্থ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন দেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। অনেকের মতো তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাকে। সুস্থ হয়ে বেশ কয়েক দিন হলো অফিসে যোগদান করেছেন এবং কাজ করছেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। অপরপক্ষে করোনাও অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস। এ কারণে অসতর্ক চেলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে না চললে

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক
এ দেশে সংক্রমণের হার মোকাবিলা করা কঠিন। দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকা- বন্ধ রাখলে কর্মহীনতা, আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হওয়া, নানা সামাজিক সমস্যা, রোগবালাই, অপুষ্টির কারণে অনেকের মৃত্যু ঘটতে পারে। সে কারণে জীবন-জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্জিত অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের কিছুকাল পরই করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার কমে আসতে পারে। করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে অনেক লুকায়িত ও মৃদু কেসও শনাক্ত হবে। সেক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশিদিন স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ হারে নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাম্যক উপলব্ধি করেন। অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সহজে যেন করোনা পরীক্ষা করা যায়, এমন পদ্ধতি চালু করা হবে। উপেজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর প্রচেষ্টা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায়ে আরটি পিসিআর পরীক্ষা যত দ্রুত সম্ভব সমপ্রসারিত হবে। এছাড়াও সব জেলা হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা সমপ্রসারণের কাজ চলছে। জেলা পর্যন্ত সব সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অঙ্েিজন লাইন সমপ্রসারণ করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা, অঙ্েিজন কনসানটেটরসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব রোগের যেন ভালোভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া যায়, সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য অর্থাৎ জীবনের সব কিছুকে ঘিরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। তিনি সমপ্রতি দুই হাজার চিকিৎসক, পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তার নির্দেশে এখন দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতার কাজ অতি দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। করোনা পরীক্ষার কাজ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমপ্রসারিত হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত আরটি পিসিআর পরীক্ষা যত দ্রুত সম্ভব সমপ্রসারিত হবে। আরও নতুন নতুন সহজে করা যায়, এমন কোভিড পরীক্ষা চালু করা হবে। উপেজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা চালুর প্রচেষ্টা নেয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতালের বিষয়ে মূল্য নির্ধারণ যখন যেমন প্রয়োজন তেমন করে তা করা হবে। এ ব্যাপারে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ কাজ করছে বলেও জানান আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আপনারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ভরসা রাখুন। বিশ্বের করোনা বাস্তবতার প্রতিও লক্ষ্য রাখুন। বাংলাদেশ ব্যতিক্রম কোনো দেশ নয়। আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যে যা করা সম্ভব এবং যা করা বাস্তবমুখী, সরকার সে ব্যবস্থা-ই নিচ্ছে। আরেকটি কথা বলতে চাই, আপনার সুরক্ষা আপনার হাতেই। যতদিন করোনা থাকবে, ততদিন প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ মহাপরিচালক আরও বলেন, কারও করোনা সন্দেহ হলে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা দিন। যেকোনো মূল্যে মৃত্যুর সংখ্যা হরাসে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতেই হবে। এদিকে দেশে করোনাভাইরাস দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশ সময় থাকতে পারে। তাই দেশের করোনার চিত্র তুলে ধরতে স্বাস্থ্য বুলেটিনের পরিবেশনা, কে পরিবেশন করবেন এবং কীভাবে পরিবেশন করা হবে – এ বিষয়ে ব্যতিক্রম আসতে যাচ্ছে। বুলেটিনের শুরুতেই আবুল কালাম আজদ বলেন, আপনারা অনেকে হয়তো জানেন, আমিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। বেশ কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, আপনারাও আমার জন্য দোয়া করেছেন। তাই আমি সুস্থ হয়ে বেশ কয়েক দিন হলো অফিসে যোগদান এবং কাজ করছি। বুলেটিনে ব্যতিক্রম আসার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন আপনারা যে তথ্যের, পরিসংখ্যানের জন্য অপেক্ষা করেন, আমি অধ্যাপক নাসিমা সুলতানাকে অনুরোধ করবো যে, তিনি পরিসংখ্যানটা দেবেন। আমি আরও একটা জিনিস আপনাদের জানাতে চাই, যেহেতু বিষয়টি দুই থেকে তিন বছরের জন্য হতে যাচ্ছে, কাজেই আমাদের স্বাস্থ্য বুলেটিনের পরিবেশনা কে করবেন এবং কীভাবে পরিবেশন করবেন, এ বিষয়েও হয়তো ব্যতিক্রম আসবে। সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের আরও উদ্ভাবন করতে হবে। সেই ব্যবস্থাগুলোই আমরা প্রবর্তন করবো।

Check Also

ইলিশ

জালে ধরা পড়েনি ইলিশ জেলে মহাজনদের মাথায় হাত

শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান :    ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে গিয়ে অনেকেই ফিরেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *