Tuesday , October 20 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড ‘ বাড়ছে ভয়াবহতা বাড়ছে আতঙ্ক

করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড ‘ বাড়ছে ভয়াবহতা বাড়ছে আতঙ্ক

 

করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত

দেশে করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। একদিনে ৩ হাজার ৮৬২ জন আক্রান্ত হয়েছে আর ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৬২ জনে। ফলে বাংলাদেশে করোনার মহামারী নতুন মাত্রায় উপনীত হয়েছে। যতো দিন যাচ্ছে বাড়ছে ভয়াবহতা। পরিস্থিতির অবনতির সাতে সাথে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে এ ভাইরাস নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক। প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি বাড়িয়ে দিচ্ছে শঙ্কা। এই ভীতি-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে কারও রেহাই নেই। উচ্চবিত্তের ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে মহল্লার টং দোকানে চলছে আলোচনার ঝড়। সবাই প্রকাশ করছেন ভীতি আর আতঙ্কের কথা। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হচ্ছে, একে ঠেকানোর নানা চেষ্টা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। হাজারও লোক আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিদিন। অনেকে মারা যাচ্ছে। একেকটি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা রোগীর চাপে ভেঙে পড়ছে। এসব খবর দেখে, শুনে এবং পড়ে মানুষের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। এ ভাইরাস এমনভাবে ডালপালা বিস্তার করছে যে, করোনার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল স্বাভাবিক রাখা এখন অসম্ভব। বর্তমানে খুব সহসা করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হবে এমন ধারণার পেছনে কোনো বাস্তব যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত
করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) দেশে একদিনে সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীসহ

সারাদেশের ৬১টি ল্যাবরেটরিতে রেকর্ডসংখ্যক ১৮ হাজার ৪০৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষাও হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ১৭ হাজার ২১৪টি নমুনা। এ নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৮৬২ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত
এদিকে দু’টি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত সোমবার প্রতি মিনিটে তিনজন শনাক্ত হয়েছেন এবং প্রতি ঘণ্টায় দুজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও একই সময়ে রাজশাহীতে ৪ জন, খুলনায় ৩ জন, বরিশালে একজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত
করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে ৩৪ জন ও বাড়িতে ১৮ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এসেছেন একজন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৭ জন ও নারী ৬ জন। গতকাল মঙ্গলবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৫৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এই পর্যন্ত এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ২৬২ জন। এর আগে গত শুক্রবার একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল। ওইদিন ৪৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। গত সোমবারের চেয়ে গতকাল ১৫ জন বেশি মারা গেছেন। শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের দিনও এই হার ছিল ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত সোমবারের চেয়ে মঙ্গলবার দশমিক ০১ শতাংশ বেশি।
করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত
গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯৪ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ৯৪ হাজার ৪৮১ জন রোগী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১৭ হাজার ২১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৮৬২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটিও একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। গত সোমবারের চেয়ে মঙ্গলবার ৭৬৩ জন বেশি শনাক্ত হয়েছে। গত সোমবার শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৯৯ জন।

তিনি জানান, নমুনা পরীক্ষায় মঙ্গলবার শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ। সোমবারের চেয়ে মঙ্গলবার শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২৩৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৬ হাজার ২৬৪ জন।
করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা
নাসিমা সুলতানা জানান, মঙ্গলবার শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে মঙ্গলবার সুস্থতার হার দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।

তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৪৭ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৩ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন, খুলনা বিভাগে ৩ জন, ময়মনসিংহে ১ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৪ জন, বাসায় মারা গেছেন ১৮ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এসেছেন ১ জন।
করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা
অধ্যাপক নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৬৩৫ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১০ হাজার ৩০২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩৫৯ জন। এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৬ হাজার ১৭৭ জন। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারিন্টইন মিলে কোয়ারিন্টাইন করা হয়েছে ৩ হাজার ৪২১ জনকে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৯ জনকে কোয়ারিন্টাইন করা হয়েছে। কোয়ারিন্টাইন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৫৪৪ জন। এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৩ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারিন্টাইনে আছেন ৬২ হাজার ৫৪৬ জন। দেশের ৬৪ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টাইনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে।
করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৪২টি। ২৪ ঘণ্টায় বিতরণ হয়েছে ৭ হাজার ৭৮০টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৭টি। বর্তমানে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৮০টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৭শ’টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩৫৭ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৮৫ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ১৯ হাজার ৯০৬ জনকে স্কেনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫ জুন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯১৩ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪০১ জন এবং এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৯২৭ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫ জুন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮১ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ২৮৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ৯১১ জন এবং এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৪১ জন বলে তিনি জানান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত

Check Also

১৪৪ ধারা জারি ,

আতঙ্কে ভাঙ্গার অধিবাসীরা ১৪৪ ধারা জারি ,

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদে চার রাউন্ড গুলি চালানো নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত। অনলাইন রিপোর্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *