Friday , August 14 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ” চলে গেলেন রাজনীতির অগ্নিপুরুষ নাসিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ” চলে গেলেন রাজনীতির অগ্নিপুরুষ নাসিম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আর নেই। আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে-রাজিউন)। আজ (রোববার) সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে।
গত ১ জুন জ্বর-কাশিসহ করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নাসিম। ওই দিন রাতে তার করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে।
৫ জুন (শুক্রবার) ভোর সাড়ে ৫টায় নাসিমের ব্রেন স্ট্রোক হয়। কয়েক ঘণ্টা সফল অস্ত্রোপচার হলেও মাথার ভেতরে বেশ কিছু রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। এরপর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন। এরই মধ্যে পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসে। তবে করোনা নেগেটিভ আসলেও শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি দেখা যায়। টানা আট দিন অচেতন অবস্থায় থেকে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আওয়ামী লীগের এই নেতা। মৃত্যুকালে মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অসংখ্য নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন। এদিকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, মৎসজীবী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন : ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মোহাম্মদ নাসিমের জন্ম। তার পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। মোহাম্মদ নাসিমের মায়ের নাম মোসাম্মৎ আমিনা খাতুন। যিনি আমেনা মনসুর হিসেবেই পরিচিত। তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন। পারিবারিক জীবনে মোহাম্মদ নাসিম বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম লায়লা আরজুমান্দ। মোহাম্মদ নাসিম জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। মোহাম্মদ নাসিমের বাবা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে বিজয়ী হন। প্রাদেশিক পরিষদের মন্ত্রীও হন। ‘৭০-এর নির্বাচনেও তিনি প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পান। দ্রুতই তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতায় পরিণত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের যোগাযোগমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে এখনও এখানকার মানুষের কাছে স্মরণীয়-বরণীয়।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন : পিতার পরে নিজ রাজনীতিতে এসে সবার অন্তরে ঠাঁই করে নেন মোহাম্মদ নাসিমও। ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেন। সেই থেকে অদ্যাবধি আওয়ামী লীগের যোদ্ধা। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ নাসিম। ওই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছিল একটি। ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন তিনি। রাজনীতির মাঠে তিনি যেমন সুবক্তা তেমনই একজন ঝানু সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ নাসিম।

দীর্ঘদিন ছিলেন সংসদে : ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে মোহাম্মদ নাসিম মামলাবিষয়ক জটিলতায় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় ছেলে তানভীর শাকিল জয় এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এবং সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার সন্তান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। দাদা এবং বাবার পথ ধরে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয়ও। জাতীয় সংসদে এই তিন প্রজন্মের ভূমিকা ও বক্তব্য নিয়ে একটি বই সম্পাদনা করেন মোহাম্মদ নাসিম। ‘সংসদে তিন প্রজন্ম’ নামের বইয়ে জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, মোহাম্মদ নাসিম এবং নাসিমের সন্তান তানভীর শাকিল জয়ের সংসদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

সামলেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় : শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাসিম এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও সেবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে ১৯৯৬-এর আগ পর্যন্ত বিরোধীদলে থেকে মোহাম্মদ নাসিম রাজপথে লড়াকু সৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। এখানেও তার অবদান ছিল প্রশংসনীয়। সেখানেই আন্দোলন সেখানেই মোহাম্মদ নাসিম। এ জন্য তিনি রাজপথে পুলিশের হাতে একাধিকবার অত্যাচার এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকা-ের সাথে জড়িত ছিলেন শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম। ঢাকাসহ নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। সিরাজগঞ্জের অবকাঠামো সব বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে বর্ষিয়ান এই রাজনীতিকের হাত ধরে। সর্বশেষ করোনা পস্থিতিতেও তিনি আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোট ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা ও নিজ নির্বাচনী এলাকায় অসহায় মানুষদের সহায়তা করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশজুড়ে নাসিমের উন্নয়নের ছোঁয়া : নানা নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও মোহাম্মদ নাসিম সরকারের স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশজুড়ে করেছেন নানা উন্নয়নমূলক কর্মকা-। দেশের জাতীয় রাজনীতিতে যেমন অবদান রেখেছেন তেমনি নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে গেছেন সারাজীবন। যমুনা নদীর করালগ্রাসে বিধ্বস্ত সিরাজগঞ্জ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জেলায় নানামুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিস্তারে বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। শহীদ মনসুর আলীর পরিবার এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের চাকরিসহ নানামুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছে। কাজীপুর উপজেলায় পুরাতন রাস্তা কাঁচা আছে- এমন রাস্তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এছাড়া নিজ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্কুল, কলেজ, মাদরাসার উন্নয়ন করেছেন। নিজ এলাকা কাজিপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ ভবন নির্মাণ, তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা আধুনিক রেস্ট হাউজ ভবন নির্মাণ, তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কাজিপুর কৃষি অফিসারের কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মনসুর নগর, নাটুয়ারপাড়া, তোকানী, নিশ্চিন্তপুর, গান্ধাইল ও চালিতাডাঙ্গায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট আমিনা মনসুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মেঘাই পর্যটনের কাজ, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের (পিডবিস্নউডি) তত্ত্বাবধানে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ আসনবিশিষ্ট শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ার নির্মাণ, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ। স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজিপুর ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটরস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এফডবিস্নউভিটিআই) ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে গান্ধাইলে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়া পাবনা, বগুড়া তথা গোটা উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগিয়েছেন মোহাম্মদ নাছিম। এসব জেলায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য মোহাম্মদ নাসিম সংশ্লিষ্ট আসনের এমপিদের সহযোগিতা করেছেন। আবার প্রকল্প যাতে পান এজন্য ওপর মহলে তদবিরও করেছেন। যে কারণে এসব এলাকার অনেকে বলেন, মোহাম্মদ নাসিম উত্তর বঙ্গের উন্নয়নের রূপকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতনের শিকার নাসিম : রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসাবে ছাত্রজীবন থেকেই দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রথম সারিতেই থাকতেন মোহাম্মদ নাসিম। তাই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সহ্য করতে হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। বিশেষ করে পাকিস্তানের স্বৈরশাসন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ স্বাধীন বাংলাদেশে সবে সামরিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাসিম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এরপর দেশের সব অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্র সৈনিক। মোহাম্মদ নাসিম ৮০ দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি বার বার রাজপথে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন সময় নির্যাতন সইতে হয়েছে তাকে। রোষানলের শিকার হয়েছিলেন ১/১১ এর সরকারের সময়েও। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও জাতির জনকের রাজনীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন সব সময়ই আপসহীন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার কারণে তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ছিলেন। রাজপথে সব সময়ই সক্রিয় থাকা মোহাম্মদ নাসিমের রাজনৈতিক জীবনে অর্জন ও সাফল্য এসেছে অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। এ দেশের অসংখ্য রাজনৈতিক ঘটনার নায়ক অথবা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মোহাম্মদ নাসিম সামপ্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদে বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মোহাম্মদ নাসিমের দাফন আজ : স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্র মোহাম্মদ নাসিমের দাফন হবে আজ। আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হবে তাকে। তার আগে সেখানেই তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল বেশ কয়েকটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে জনগণের স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর মরদেহ সিরাজগঞ্জে নেয়া হচ্ছে না।

Check Also

ইলিশ

জালে ধরা পড়েনি ইলিশ জেলে মহাজনদের মাথায় হাত

শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান :    ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে গিয়ে অনেকেই ফিরেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *