Friday , August 14 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / করোনা ও আমাদের করনীয় : ড. মুহাম্মদ বেলায়েত হুসাইন

করোনা ও আমাদের করনীয় : ড. মুহাম্মদ বেলায়েত হুসাইন

ড. মুহাম্মদ বেলায়েত হুসাইন

 

মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে কারীমায় বলেছেন, ‘আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক।’ (সূরা যুমার: ৬২)

মহান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে যা কিছু আছে এর সব কিছুই মহান আল্লাহ তা’য়ালার সৃষ্ট বস্তু বা মাখলুক। আমরা সাধারণ দৃষ্টিতে এই মাখলুক হতে তার গুন প্রকাশ হতে দেখি যেমন, মেঘ মহান আল্লাহ তা’য়ালার একটি মাখলুক তার গুন হচ্ছে বৃষ্টি দান করা, সূর্য মহান আল্লাহ তা’য়ালার একটি মাখলুক তার গুন হচ্ছে তাপ ও আলো দান করা,গাভী মহান আল্লাহ তা’য়ালার একটি মাখলুক তার গুন হচ্ছে দুধ দান করা,মৌমাছি মহান আল্লাহ তা’য়ালার একটি মাখলুক তার গুন হচ্ছে মধু দান করা,গাছ মহান আল্লাহ তা’য়ালার একটি মাখলুক তার গুন হচ্ছে ফল দান করা । এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাখলুকের নিজ নিজ যে গুন তার মধ্যে রয়েছে এটা কি তার নিজের?আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে মেঘ বৃষ্টি দানকারী, সূর্য তাপ ও আলো দানকারী, গাভী দুধ দানকারী, গাছ ফল দানকারী, মৌমাছি মধু দানকারী কিন্তু একটু স্থির মস্তিস্কে চিন্তা করলেই বোঝা যাবে যে এর পিছনে মহান আল্লাহ তা’য়ালার কুদরত রয়েছে।

তাবলিগ জামাতের মুবাল্লিগ ভাই আব্দুল ওহহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি খুব সুন্দরভাবে এই মাখলুকের পরিচয় তুলে ধরেছেন, তিনি বলতেন,

১) ইয়ে মাখলুখ হেয়, ইয়ে খোদ নেহি বনা, আল্লাহ তা’য়ালানে আপনা কুদরতছে ইচকো বানায়া।

অর্থাৎ, এটি মাখলুক, এটি নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, একে আল্লাহ তা’য়ালা নিজ কুদরতের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।

২) ইচকো আন্দারজো ছিফাত হেয় ইয়ে ইচকো আপনা নেহি হায়, আল্লাহ তা’য়ালানে আপনা কুদরতছে ইচকো আন্দার রাখখা।

অর্থাৎ, এর মধ্যে যে গুন আছে তা তার নিজের নয়, এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া।

৩) ইয়ে ছিফাত জাহির করনেকেলিয়ে ভিহারআনগারি আল্লাহকা এরাদাকা মোহতাজ, ইয়ে খোদ কুচ নেহি করছাকতা।

অর্থাৎ, এই গুন প্রকাশ করার জন্যও সে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল, এটি নিজে কিছুই করতে পারে না।

ভাই আব্দুল ওহহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই উক্তিগুলো হতে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, গাছ নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি একে আল্লাহ তা’য়ালা নিজের কুদরতের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে ফল দান করার যে গুন তা এর নিজের নয় এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া এবং এই গুন প্রকাশ করার জন্যও এটি আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল, এটি নিজে কিছুই করতে পারে না।

এই বিশ্ব জগতের যাকিছু আছে যেমন, মানুষ, জ্বীন, ফেরেশতা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, গাছপালা, নদী-নালা, সমুদ্র-পাহাড়, আকাশ-বাতাস, চাঁদ-সূর্য, আগুন, পানি, মাটি সবই আল্লাহ তা’য়ালারই সৃষ্টি! এগুলো নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, এগুলোকে আল্লাহ তা’য়ালা নিজ কুদরতের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। এদের মধ্যে যে গুন আছে তা এদের নিজের নয়, এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া। এই গুন প্রকাশ করার জন্যও এগুলো আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

লক্ষ্য করুন, আমাদের প্রিয় রসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার জন্য শত্রুরা তাঁর বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলেছিল। কাফির পালোয়ানদের চোঁখের সামনে দিয়েই প্রিয় নবীজী বের হয়ে চলে গেলেন! কাফিররা তাঁকে দেখেইনি! তাদের কিন্তু তখন ‘চোঁখ’ চোখের জায়গাতেই ছিল। আমাদের প্রিয় নবীজী তো তাদের সামনে দিয়েই বের হয়েছেন! কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে ঐ ‘চোঁখগুলি’ নবীজীকে দেখতেই পারেনি।যে চোখ আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে দেখে, সেই চোখই আবার আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে দেখে না। অর্থাৎ চোঁখ নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, আল্লাহ তা’য়ালা নিজ কুদরতের দ্বারা তাকে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে দেখার যে গুন আছে তা তার নিজের নয়, এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া। এই গুন প্রকাশ করার জন্যও তা আল্লাহতা’য়ালারইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

নমরূদ যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিসসাল্লামকে আগুনে ফেলল, আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে আগুন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিসসাল্লামের জন্য একদম শান্তির জায়গায় পরিণত হল! এত বড় আগুন, তাও ইব্রাহীম আলাইহিসসাল্লামের একটা পশমও পুড়াল না। যে আগুন আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে পুড়ায় আবার সেই আগুনই আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে পুড়ায় না।অর্থাৎ আগুন নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, আল্লাহ তা’য়ালা নিজের কুদরতের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে পুড়ানোর যে গুন আছে তা এর নিজের নয়, এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া। এই গুন প্রকাশ করার জন্যও আগুন আল্লাহতা’য়ালারইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

ইব্রাহীম আলাইহিসসাল্লাম মহান আল্লাহর হুকুমে পুত্র ঈসমাইল আলাইহিসসাল্লামকে কোরবানী করার জন্য তাঁর গলায় ধারালো ছুরি চালালেন কিন্তু ছুরি ঈসমাইল আলাইহিসসাল্লামের একটি পশমও কাটতে সক্ষম হল না। আর ঐ ছুরিতেই ইব্রাহীম আলাইহিসসাল্লাম বকরী কোরবানী করলেন। ছুরির ক্ষেত্রেও ঐ একই হুকুম, যে ছুরি আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে কাটে আবার সেই ছুরিই আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে কাটে না। ছুরির কাটার গুন প্রকাশ হওয়ার জন্য ছুরি আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

তাবলিগ জামাতের দ্বিতীয় হযরতজী হজরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, আল্লাহ পাক মানব জাতিকে পারীক্ষা করবার জন্য এই দুনিয়াকে দুই ভাগে পয়দা করেছেন । এক ভাগের নাম আদত ও অপর ভাগের নাম কুদরত । আদত দেখা যায় কুদরত দেখ যায় না । কাজ করে কুদরতে আদতে নয় । কুদরত বিশ্বাস করা ফরজ, আদত বিশ্বাস করা হারাম । কিন্তু আমল করা জায়েজ । যেমন দোকান, ব্যাবসা, চাকুরি ইত্যাদি । আদতের ভিতরে কাজ করে কুদরতে । আদত কুদরত ব্যাতিত অচল কিন্তু কুদরত আদত ব্যাতীত আচল নয় । যেমন দেখা যায় হারিকেন জ্বলে তেলে কিন্তু তেল দেখা যায় না, দেখা যায় হারিকেন । হারিকেন তেলের অভাবে অচল কিন্তু তেল হারিকেনের অভাবে অচল নয় । তদ্রুপ হারিকেন তেলের উপর মোহতাজ কিন্তু তেল হারিকেনের  উপর মোহতাজ নয় ।

এজন্য জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে খুবভালভাবে মনে রাখতে হবে, মাখলুক নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, একে আল্লাহ তা’য়ালা নিজের কুদরতের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে যে গুন আছে তা এর নিজের নয়, এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া। এই গুন প্রকাশ করার জন্যও এটি আল্লাহর ইচ্ছার (কুদরতের) উপর নির্ভরশীল, এটি নিজে কিছুই করতে পারে না। এর ব্যতিক্রম হলে তা শিরকে পর্যবসিত হবে। আক্বীদা নষ্ট হবে।

অনুরুপভাবে মনে রাখতে হবে, করোনা ভাইরাস নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, একে আল্লাহ তা’য়ালা নিজের কুদরতের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে মহামারী সৃষ্টির যে গুন আছে তা তার নিজের নয়, এই গুন আল্লাহ তা’য়ালার দেওয়া। এই গুন প্রকাশ করার জন্যও সে আল্লাহর ইচ্ছার (কুদরতের) উপর নির্ভরশীল, সে নিজে কিছুই করতে পারে না।

এটিই হলো ইসলামী আক্বীদা। এই কথার উপর বিশ্বাস দ্বীলের ভিতর বদ্ধমূল করেতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে ঈমান নষ্ট হবে।

এর সাথে সাথে এ কথাও মনে রাখতে হবে, তাকদীরে যা লেখা আছে, তা-ই ঘটবে,আমি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করব না, যা হওয়ার তাই হবে, হাত গুটিয়ে বসে থাকব এটিও রসূলাল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা নয়।

সায়েখুল ইসলাম আল্লামা মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম খুব সহজেই বিষয়টি বুঝিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘তাকদীর’ বিস্ময়কর ও বিরল এক বিশ্বাস, আল্লাহ পাক প্রত্যেক মুমিনকে দান করেছেন। এই বিশ্বাসটিকে সঠিকভাবে না বোঝার কারণে মানুষ নানা ধরনের ভুলের শিকার হচ্ছে।

প্রথম কথা হল, কোন ঘটনা সংঘটিত না হওয়ার আগে তাকদীরের বিশ্বাস কোন মানুষকে যেন কর্মহীনতার প্রতি উদ্বুদ্ধ না করে। যেমন কেউ তাকদীরের বাহানা দেখিয়ে হাত গুটিয়ে বসে পড়ল আর বলল, তাকদীরে যা লেখা আছে, তা-ই ঘটবে; আমি কিছু করব না।

এই কর্মনীতি রসূলে কারীম সাল্লালস্নহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার পরিপন্থী। বরং আদেশ হল, যে বস্ত্তটি অর্জন করার যে ব্যবস্থা আছে, তাকে অর্জন করতে সেই ব্যবস্থা অবলম্বন করত হবে। এতে কোন ত্রুটি রাখা যাবে না।

দ্বিতীয় বিষয়টি হল, তাকদীরে বিশ্বাসের উপর আমল শুরু হয় কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর। যেমন একটি ঘটনা ঘটল। এখন একজন মুমিনের কাজ হল, সে এই চিন্তা করবে যে, আমার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করার ছিল, সেসব আমি করেছি।  এখন আমার আয়োজনের পরিপন্থী যা ঘটল, এটা আল্লাহ পাকের সিদ্ধান্ত। আমি এর উপর সন্তুষ্ট আছি। কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তার জন্য আক্ষেপ করা, কষ্ট প্রকাশ করা এবং একথা বলা যে, যদি আমি অমুক ব্যবস্থাটি গ্রহন করতাম, তাহলে এমনটি ঘটত না, এই চিন্তাধারা ও এই বিশ্বাস তাকদীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী। এ দুই সীমানার মাঝামাঝি আল্লাহ পাক আমাদেরকে একটি মধ্যম পন্থা শিখিয়ে দিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকদীর সামনে এসে উপস্থিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার কর্তব্য হল, নিজের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, সাবধানতা অবলম্বন করা। কেননা তাকদীরে কী লেখা আছে, তা আমাদের জানা নেই।

হযরত ওমর ফারূক রাযিয়াল্লাহু আনহু শাম অর্থাৎ বর্তমানের সিরিয়া সফরে যাচ্ছিলেন। পথে সংবাদ পেলেন, শাম অঞ্চলে মহামারি আকারে প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এত জটিল রূপ ধারণ করেছে যে, রোগটি দেখা দেওয়া মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বহু মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। উর্দূনে (জর্ডান) হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাজারের কাছে পুরো কবরস্থানটিতে সেইসব সাহাবায়ে কেরাম সমাহিত আছেন, যাঁরা উক্ত প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সঙ্গীদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন, এই পরিস্থিতিতে ওখানে যাবেন, নাকি ফিরে যাবেন। তখন হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস শোনালেন যে, রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোন অঞ্চলে যদি প্লেগ দেখা দেয়, তা হলে বাইরের কোন মানুষ যেন উক্ত অঞ্চলে প্রবেশ না করে আর ওখানকার কোন মানুষ যেন ওখান থেকে পালায়ন না করে।’

এই হাদীসে রসূলে করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, যেন আমরা ওখানে না যাই। তাই তিনি শাম সফর মুলতবি করে দিলেন। সে সময় এক সাহাবী- খুব সম্ভব হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, ‘আপনি কি আল্লাহর তাকদীর থেকে পালায়ন করছেন?’

অর্থাৎ আল্লাহ যদি এই প্লেগ দ্বারা আমাদের মৃত্যু লিখে রেখে থাকেন, তাহলে যাওয়া না যাওয়া দু-ই তো সমান।

উত্তরে হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘যদি আপনি ছাড়া অন্য কেউ কথাটা বলত, তাহলে আমার কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু আপনি জেনে বুঝে কথাটা বললেন।’

তারপর হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহর তাকদীরের দিকে পালায়ন করছি।'(বুখারী, মুসলিম)

অর্থাৎ হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বুঝতে চেয়েছেন, ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত আমাদের প্রতি আদেশ হল, সাবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর এটি সবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা তাকদীর বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়। বরং এটি তাকদীর বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। কারণ রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন, তোমরা সাবধানতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন কর। আমরা রসূলের এই আদেশ পালনার্থেই ফিরে যাচ্ছি। তবে তারপরও আল্লাহ পাক যদি প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা লিপিবদ্ধ করে রেখে থাকেন, তাহলে আমরা তাকে প্রতিহত করতে পারব না। কিন্তু আমাদের ব্যবস্থা আমাদেরকে অবলম্বন করতে হবে

এ হল একজন মুমিনের বিশ্বাস যে, নিজের পক্ষ থেকে আয়োজন ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করবে। কিন্তু আয়োজন ব্যবস্থাপনা করার পর বিষয়টি আল্লাহর হাতে তুলে দেবে এবং বলবে, হে আল্লাহ! আমার যা যা করণীয় ছিল, আমি সব সম্পন্ন করেছি। এবার বিষয়টি তোমার হাতে তুলে দিলাম। তুমি যা সিদ্ধান্ত করবে, তাতেই আমি খুশি থাকব। তোমার সিদ্ধান্তের উপর আমি কোন আপত্তি তুলব না। কাজেই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগে তাকদীরে বিশ্বাস যেন কাউকে কর্মহীনতার প্রতি উদ্বুদ্ধ না করে। তাকদীরের বাহানায় হাত গুটিয়ে বসে থাকার অনুমতি নেই। ইসলামের শিক্ষা হল, তোমার আয়োজন তুমি সম্পন্ন কর। হাত-পা ছুঁড়তে থাক। কিন্তু সব আয়োজন সম্পন্ন করার পর যদি ঘটনা তোমার চাহিদার পরিপন্থি ঘঠে যায়, তাতেই সন্তুষ্ট থাক।(ইসলাম আওর হামারী যিন্দেগী, ১ম খন্ড)

সায়েখুল ইসলামেরকথা থেকে আমরা এ হেদায়েত গ্রহন করেতে পারি, একজন মুসলমান করোনা ভাইরাসহতে সর্বোচ্চ সাবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তারএই সবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা তার তাকদীরের উপর বিশ্বাসের পরিপন্থী হবে না। বরং এটি তাকদীরের উপর বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। এরপরও যদি আমি বা আমার পরিবারের কেউকরোনাভাইরাস দ্বার আক্রান্ত হই এবং এই করোনা ভাইরাসের আক্রমনে মহান আল্লাহ তা’য়ালাআমার বা আমার পরিবারের কারোমৃত্যুলিপিবদ্ধ করে রাখেন,তা আমরা প্রতিহত করতে পারব না। মনে করতে হবে এটা মহান আল্লাহ তা’য়ালার সিদ্ধান্ত। এর উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এই অবস্থার উপর আক্ষেপ করা, কষ্ট প্রকাশ করা এবং একথা বলা যে, আমি যদিঅমুক অমুক কাজ করতাম বা অমুক ব্যবস্থাটি গ্রহন করতাম, তাহলে এমনটি ঘটত না। বরংএই চিন্তাধারা ও এই বিশ্বাস তাকদীরের উপর বিশ্বাসের পরিপন্থী। তবে আমাদেরকে সর্বোচ্চসাবধানতামূলকব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে।এতে কোন ত্রুটি রাখা যাবে না।তকদীরের উপর ভরসা করে নিশ্চিন্তে অলসভাবে বসে থাকা যাবে না।এই কাজ রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর শিক্ষার পরিপন্থী।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সঠিক কথার উপর আমল করারর তৌফিক দান করুন।(আমিন)

 

 

 

 

Check Also

ইলিশ

জালে ধরা পড়েনি ইলিশ জেলে মহাজনদের মাথায় হাত

শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান :    ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে গিয়ে অনেকেই ফিরেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *