Thursday , October 22 2020
Breaking News
Home / খবর / বাবা ! আমরা কি করে বেঁচে আছি,কেউ ফিরে দেখে না.. গাংনীর জোড়পুকুরিয়া গ্রামে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস’ বিছানাগত প্রতিবন্ধী মায়ের আকুতি

বাবা ! আমরা কি করে বেঁচে আছি,কেউ ফিরে দেখে না.. গাংনীর জোড়পুকুরিয়া গ্রামে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস’ বিছানাগত প্রতিবন্ধী মায়ের আকুতি

 

Jorepukuria Fire Destroy Pic
আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  :  বাবা! আমরা কি করে বেঁচে আছি, কেউ ফিরে দেখে না।আল্লাহ আমার মরণ করে না।আমি আর কত কষ্ট করবো।স্বামী হারিয়েছি অনেক বছর আগে। ৬ মেয়ে ও ২ ছেলে সন্তান নিয়ে আমার কষ্টের সংসার। দুঃখ-কষ্টে জীবন যাপন করে বয়সের ভারে আমি শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছি।আর চলতে ফিরতে পারিনা।বিছানায় শুয়ে প্রতিবন্ধী পাগলী ২ মেয়ে ও বিধবা অসহায় মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চির রোগা হয়ে বিছানাগত গেলাম বাবা ! দিনমজুর দুই ছেলের বদেীলতে একমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। কষ্টের কথা আর কাকে বলবো। চেয়ারম্যান ,মেম্বরকে কতবার বলেও কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। সরকারীভাবে অসহায়দের ঘর নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক সংখ্যক ঘর নির্মিত হলেও হতভাগিনী আমার ঘরটি হলো না। টাকা দিতে না পারায় মেম্বর আমার নাম কেটে অন্যত্র দিয়েছে।আমি এখন প্রতিবন্ধী ও বিধবা মেয়েদের নিয়ে কি করবো!অনেক কষ্ট করে কটা টিন ক্রয় করে রান্না ঘর করেছিলাম তা্‌ও আগুনে পুড়ে গেল। কান্না জড়িত কন্ঠে এসব কথাগুলো বলছিলেন জোড়পুকুরিয়া গ্রামের অশীতিপর অসহায় (বৃদ্ধা) আনোয়ারা বেওয়া।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে,গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া (স্কুল পাড়া) গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেওয়ার বাড়ীতে প্রতিবন্ধী মেয়ে নিলুফা (৪০) রান্না করার সময় আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে অসাবধানতাবশত আগুন লেগে যায়।আগুনে রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে সাথে সাথে বামন্দী ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ও কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

Jorepukuria Fire Destroy Pic1

অসহায় আনোয়ারা বেওয়ার ঘরে আশ্রিত বিধবা মেয়ে মনোয়ারা (৫০) জানান, আমার মা অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা, আমি বিধবা হয়ে মায়ের ঘরে বোঝা হয়ে রয়েছি। প্রতিবন্ধী বোন নিলুফার ও(৪০) মায়ের ঘাড়ে বসে খাচ্ছি। কর্মক্ষম কেউ না থাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। আমার বোনটার যদি একটা প্রতিবন্ধী কার্ড করা যেত ।তাহলে দ’ুবেলা দু’মুঠো ভাতের ব্যবস’া হতো।আপনাদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি।প্রতিবেশীরা অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা দেয়ার জন্য জোর দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সাহারবাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, আমি সাধ্যমত আনোয়ারা বেওয়া কে সহায়তা করে থাকি। বয়স্ক ভাতার কার্ড আমি করে দিয়েছি। তার তার কষ্টের কথা আমি জানি। মেম্বর তালিকায় নাম না দিলেও আমি আগামী প্রকল্পে তার একটি ঘর নির্মাণের ব্যবস’া অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করে দেব।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান, আমি বামন্দী ফায়ার সার্ভিস কর্মী মহিউদ্দীনের মারফত জানতে পেরেছি। জোড়পুকুরিয়া গ্রামের বৃদ্ধা প্রতিবন্ধী আনোয়ারা বেওয়ার একই পরিবারে ৩ জন অসহায় প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। পরিবারে কর্মক্ষম কোন ব্যক্তি নেই্‌। তার ঘর পুড়ে যাওয়ায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি তাৎক্ষনিকভাবে পিআইও মহোদয়কে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি। আমি এরকম অসহায় পরিবারের সদস্যদের পাশে দাড়াতে চাই্‌।

 

Check Also

গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :   গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সাহানা বেগম (৫০) নামে এক গৃহধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *