Tuesday , October 20 2020
Breaking News
Home / খবর / আবারও বুক পেতে দিল সুন্দরবন

আবারও বুক পেতে দিল সুন্দরবন

সুন্দরবন
ফের মায়ের মমতায় গোটা উপকূলবাসীকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন

বি এম রাকিব হাসান :    ফের মায়ের মমতায় গোটা উপকূলবাসীকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। সে সিডর আইলার মত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতও বুকে ধারণ করে নিল। সুন্দরবন বড় নি:স্বার্থ মানবপ্রেমিক। প্রতিনিয়ত যে মানুষ জাতি সুন্দরবনকে ধ্বংস করছে তাদেরকে রক্ষায় বার বার বুক আগলে দিচ্ছে মায়ের আচলের মত। ফলে এবারও ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনে আঘাতহানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ভোর ৫টায় সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করে।
সূত্রমতে, প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার ক্ষত কাটতে না কাটতেই আবারও প্রলয় ঝড় ‘বুলবুল’। বরাবরের মত এবারও উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করতে বুক চিতিয়ে লড়াই করলো সুন্দরবন। সিডর, আইলার পর বুলবুলের চোখে চোখ রেখে এবারও অপরাজেয় সুন্দরবন। বাঘের মত গর্জে ওঠা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ প্রথমে শনিবার বিকেলে ভারতীয় অংশের সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে আঘাত হানে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে এটি বাংলাদেশের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে ঢুকে পড়ে। দুই দেশের সুন্দরবনের গাছপালায় বাধা পেয়ে দুর্বল ‘বুলবুলের’ কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে যায়। এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা একইভাবে সুন্দরবনে বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
ঝড়ে খুলনার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় কয়েক হাজার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর পড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কয়রার বেদকাশী এলাকার বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, বুলবুলের প্রভাব ঠেকিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। না হলে আরও অনেক ক্ষতি হতো।
কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন না থাকলে ২০০৭ সালের সিডরের তাণ্ডবের মতোই ভয়াবহ হতো বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি।
তিনি বলেন, বুলবুলের আঘাতে অনেক কাঁচা ঘর ও গাছপালা উপড়ে যাওয়ার যেমন আশঙ্কা করা হয়ছিল, তা হয়নি শুধু সুন্দরবনের কারণে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে জরিপ করা হবে। সুন্দরবন এলাকা ঘুরে দেখে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরবেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। ২০০৯ সালের মতো এবারও বুক চিতিয়ে খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করলো সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বনবিভাগের সাতটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, সুন্দরবনের সামগ্রিক ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে। সার্ভে না করে সুন্দরবনের বিষয়ে অনুমান করে কিছু বলা ঠিক হবে না। প্রাথমিকভাবে কোনও বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ ভাটার সময় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। ফলে জলোচ্ছ্বাস ছিল না। দমকা হাওয়ার কারণে বনের ভেতরের গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ডাল ভেঙে গেছে। এ কারণে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নিরূপণ করা কঠিন। স্বচক্ষে দেখে ক্ষয়ক্ষতির একটি সুষ্ঠু ও নির্ভুল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সেজন্য দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি জানান, বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পকাঠি ফরেস্ট স্টেশনের ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কদমতলার এফজি ব্যারাকের টিনের চাল উড়ে গেছে ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঠশ্বর অফিসের ছোট ট্রলার নদীতে ডুবে গেছে এবং পাকঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোবাদক স্টেশনের কাঠের ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের জেটিটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ব্যারাকের চাল ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুনকুড়ির সোলার প্যানেল উড়ে নদীতে ভেসে গেছে। দোবেকি টহল ফাঁড়ির ৪০ ফুট দীর্ঘ পন্টুনটি ভেঙে গেছে। নলিয়ান রেঞ্জ অফিসে যাতায়াতের রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই অফিস ঘিরে থাকা গাছপালা ভেঙে পড়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের আওতায় ৩৬টি ক্যাম্প, ফাঁড়ি, রেঞ্জ ও স্টেশন রয়েছে বলে তিনি জানান।

Check Also

আলুর কৃত্রিম সংকট,

খুলনায় বাজারে আলুর কৃত্রিম সংকট, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:  প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূল্য নির্ধারণের পর খুলনার সোনাডাঙ্গা পাইকারী কাঁচাবাজার, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *