Wednesday , December 8 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আইন ও বিচার / প্রতারক আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত ৩ যুবক ট্রাভেলস এজেন্ট’র জাল ভিসায় ফিজি থেকে ৩ মাস পর দেশে ফেরত

প্রতারক আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত ৩ যুবক ট্রাভেলস এজেন্ট’র জাল ভিসায় ফিজি থেকে ৩ মাস পর দেশে ফেরত

জাল ভিসায়

স্টাফরিপোটার : প্রতারক আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে দেশে ফিরে এসেছে ৩ যুবক।প্রতারণার ফাঁদ পেতে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়ে জাল ভিসায় ফিজি দেশে পাঠানোর পর আর খোঁজ মেলেনি ট্রাভেলস্‌ এজেন্ট গোলাম আযমের।মাত্র ৩ মাস পর প্রতারিত ৩ যুবক অবশেষে নিজ খরচে বাড়ী ফিরেছে।বর্তমানে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে প্রতারিত যুবকেরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানী কাঁচা বাজার এলাকার জাহানারা ট্রাভেলসএজেন্ট-এর স্বত্বাধিকারী গোলাম আযম নানাভাবে লোভনীয় অফার দেখিয়ে প্রতারণা করে।

গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের ছেলে লাল চাঁদ ,একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মাসুম রানা, মেহেরপুর সদরের গোভীপুর গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে হাসান আলীর নিকট থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা করে নিয়ে প্রবাস ফিজিতে পাঠায়। চলতি বছর ১৬ এপ্রিল ’১৯ এদেরকে ভূয়া ভিসায় ফিজিতে পাঠালে ফিজির এয়ারপোর্ট থেকে তাদের রিসিভ্‌ড করার কেউ ছিল না। পরে প্রতারক চক্রের ফাঁদে জড়িয়ে এরা এয়ারপোর্ট থেকে কোন রকম পালিয়ে আত্মগোপন করে থাকে। এসময় তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে আদম ব্যাপারীদের অসাধুচক্রের সদস্যরা ঐ দেশে পাসপোর্ট-ভিসা করার নামে পূণরায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গড়ি-মসি করতে থাকে। এ পর্যায়ে ৩ মাস পর অর্থ্যাৎ ১৫ জুলাই’১৯ অবৈধ অনুপ্রবেশ ধরা পড়ায় প্রত্যেকের ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজ খরচে দেশে ফিরে আসে। এসময় প্রতারিত মেহেরপুর সদরের আঃ রহমান, মিজানুর রহমান, কালুর ছেলে সেলিম, মহব্বত আলীসহ বেশ কয়েকজন এয়ার পোর্ট থেকে আটক হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। এছাড়াও ঢাকার তপন, পাপ্পু,সম্রাটসহ অসংখ্য বেকার যুবক প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ছেলের সুখের জন্য এসব যুবকের বাবা-মা জমি-জমা বিক্রি, বর্গা দিয়ে ,চড়া সুদে ব্যাংকসহ এনজিওর ঋণ নিয়ে ,গরু-ছাগল বিক্রি করে বিদেশে পাঠিয়েছিল। আজ সব হারিয়ে এসব যুবক এখন দিশেহারা। কি করবে , কোথায় যাবে কিছুই ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছে না।অসহায় বাবা-মাও সব হারিয়ে পথে বসেছে ।
প্রবাসে বিপদে থাকাকালীন সময়ে ট্রাভেলস এজেন্ট গোলাম আযমের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেণ্টা করেও তার সন্ধান বা খোঁজ মেলেনি। দেশে ফিরেও তার সাথে কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এজেন্ট অফিস সূত্রে শোনা গেছে, প্রতারক গোলাম আযম বর্তমানে বাইরের দেশে আত্মগোপন করে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস’া নিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রতারিত প্রবাস ফেরত লাল চাঁদ জানান, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আমরা আজ দেশে নিজের টাকা দিয়ে ফিরে এসেছি। এখন কি করবো। বাবা মায়ের এতোগুলো টাকা ক্ষতিসাধন করে আমরা নিরুপায় জীবনযাপন করছি। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। এই প্রতারণার সুবিচার না পেলে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
ভূয়া-জাল ভিসা প্রদান কারী ট্রাভেলসএজেন্ট’র বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইনানুগ ব্যবস’া নেয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

 

Check Also

কুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

কুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বিএম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরোঃ- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *