Saturday , October 24 2020
Breaking News
Home / খবর / ঢাকা মহানগরীতে জিআরপিসহ ৫০টি থানায় কয়েক হাজার যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে

ঢাকা মহানগরীতে জিআরপিসহ ৫০টি থানায় কয়েক হাজার যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে

ঢাকা মহানগরীতে জিআরপিসহ ৫০টি থানায়

আবু জাফর   : ঢাকা মহানগরীতে জিআরপিসহ মোট ৫১টি থানা রয়েছে। এসব থানাতে কয়েক হাজার যানবাহন পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, বড় বাস, মিনিবাস, ট্রাক, মিনি ট্রাক, লরি ও মোটরসাইকেল। দীর্ঘদিন এসব যানবাহন পড়ে থাকার কারণে সবগুলো নষ্ট হয়ে পড়েছে। সব যানবাহন বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য। এসব যানবাহনের প্রকৃত মালিকরা আর কখনও ফেরত পান না। যদিও মামলার নিষ্পত্তি শেষে প্রকৃত মালিকরা এসব ফেরত পেলেও তারা তা আর নিতে চান না।
সূত্র জানায়, জব্দকৃত সকল প্রকার যানবাহন থানা অথবা আদালতের মালখানায় জমা থাকে। মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব যানবাহন বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে। একপর্যায়ে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পর সকল প্রকার যানবাহন আদালতের মাধ্যমে তা নিলামে বিক্রি হয়। আদালত তখন ভাঙ্গাড়ি হিসেবে যতসামান্য টাকায় নিলাম দেন। তখন এক শ্রেণীর ঠিকাদার এইসব অচল যানবাহন ক্রয় করে কিছু কিছু পার্টস ঐ যানবাহন থেকে খুলে অন্যত্র বিক্রি করে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেক থানাতেই একজন এসআই থাকেন মালখানার দায়িত্বে। পুলিশ যত ধরনের যানবাহন, মালামাল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তা ঐ এসআইয়ের কাছে হিসেব রাখা হয়। সবগুলো জিনিসের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্বে রেখে দেয়া হয়। আদালত কয়েক বছর পর পর এসব মালামাল ও যানবাহন একত্রিত করে তা এক সময়ে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা নিলামে দেয়া হয়। কয়েক বছর পর পর যখন এগুলো নিলাম হয় তখন সবগুলো মালামালই নষ্ট হয়ে যায়।

প্রকৃত মালিকরাও তখন আর তাদের খোয়া মালামাল নিতে চায় না। যদিও মালিকরা সেগুলো আদালত থেকে নিতে পারেন এরপর নানা ঝামেলার কারণে তারা ঐসব মালামালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

রাজধানীর মতিঝিল থানার সামনে বছরের পর বছর পড়ে আছে অর্ধশত মোটরসাইকেল ও কয়েকটি প্রাইভেট কার। এগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও চোরাই গাড়ি, অনেকগুলোর মালিক থাকলেও বেশির ভাগ গাড়ির মালিক নেই।

মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান জানান, উদ্ধারকৃত গাড়িগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ গাড়ি ছিনতাই ও চোরাই। প্রত্যেকটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব উদ্ধারকৃত গাড়ি থানায় রাখা হয় অথবা কোর্টের মালখানায় রাখা হয়। মামলা নিষ্পত্তির পরপরই উদ্ধারকৃত গাড়ি আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হয়। আর মালিক খুঁজে পাওয়া না গেলে সেগুলো একত্রিত করে কয়েক মাস অথবা বছরের পর টেন্ডারের মাধ্যমে নিলামে দেয়া হয়। যারা সর্বোচ্চ দরদাতা হবেন তারা লট হিসেবে ক্রয় করেন।

আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো প্রকার যানবাহন বা মালামাল ব্যক্তি বা অন্য কাউকে দেয়ার সুযোগ নেই। অনুরূপভাবে মিরপুর থানাতেও পড়ে আছে কয়েকশ’ যানবাহন। অনেকদিন এসব যানবাহন পড়ে থাকার কারণে দামি যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে কে বা কারা খুলে নিয়ে যায়। তবে বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যায়। এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাদন ফকিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Check Also

মেহেরপুরের ৫ রোভারের

মেহেরপুরের ৫ রোভারের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠান

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের ৫ রোভারের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেহেরপুরের কৃতি ৫ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *