Sunday , December 6 2020
Breaking News
Home / খবর / নানা সমস্যায় দিন কাটছে মেহেরপুর তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের

নানা সমস্যায় দিন কাটছে মেহেরপুর তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের

আশ্রয়ন প্রকল্পের

Kbdnews:  নির্মানের ১৭ বছর পরও সংস্কার না হওয়ায় সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটবে তা নিয়ে সংসয় দেখা দিয়েছে মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের। সময়ের দীর্ঘ সূত্রিতায় সংসারে লোকজন বাড়লেও বাড়েনি তাদের থাকার ঘর। আশ্রয়ন প্রকল্পে ৬শ’ লোকের বসবাসের এলাকায় নেই কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেই কোন সরকারি কবরস’ান। এছাড়া সেখানে রয়েছে আর্সেনিকমুক্ত পানির অভাব। সংস্কার করা প্রয়োজন বাথরম্নম ও চলাচলের রাসত্মা। সরকারি নজরদারী না থাকায় নানা সমস্যা নিয়ে দিন কাটছে তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের।
মেহেরপুর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ভারত সীমানেত্মর কাছাকাছি তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পটি। ছিন্নমূল মানুষের আশ্রয় করে দিতে ১৯৯৯ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমনে ৫৫ ব্যাটালিয়নের মেজর ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। প্রকল্পের ১০টি ব্যারাকে ১০টি করে মোট একশ’ টি পরিবার রয়েছে। পরিবার গুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সনত্মান মুক্তিযোদ্ধাদের ২৭ টি পরিবারও আশ্রয় নেন। যাদের মধ্যে জীবিত ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান।
দীর্ঘ ১৭ বছরে আশ্রয়ন প্রকল্পের লোকসংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে আশ্রয়ন প্রকল্পের লোক সংখ্যা প্রায় ৭শ’। যাদের মধ্যে ভোটার রয়েছেন ৩৭৫ জন। তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের চেয়ারম্যান আবুল বাশার জানান, প্রকল্পের প্রত্যেক পরিবারের জন্য সরকার ৩০ শতক করে খাস জমি বন্দোবসত্ম দেন। ২০০০ সালের বন্যার পর তেরঘোরিয়া প্রকল্পে প্রবেশের জন্য পাকা রাসত্মা করে দেয়া হয়। এছাড়া আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ব্যাংক ঋণের ব্যবস’া করে দেয সরকার। একই বছরে প্রকল্পের পাশের খাস জমির উপরে একটি কমিউনিটি সেন্টার ও একটি মসজিদ করে দেয়া হয়। এছাড়া প্রকল্পবাসীর জন্য একটি ৩ বিঘা ও দেড় বিঘা পুকুর দেয়া হয় প্রকল্পবাসীর গোসল করা ও মাছ চাষ করার জন্য। এছাড়া প্রতি ১০ টি করে পরিবারের জন্য ৪টি করে পায়খানা ও একটি করে আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স’াপন করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে এ সবের অসিত্মত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এসবের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে দেখা যায়। সাংবাদিকের উপসি’তি টের পেয়ে জড় হন আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা জেহের আলী, খোদা বক্স, আব্দুল মান্নান, নায়েব আলী, দাউদ হোসেন, জমসের আলী, মূলুক চাঁদ, আব্দুল জব্বার, ইসমাইল হোসেন, শের আলী, আব্দুল মতিন, আব্দুল ওয়াদুদ, দাউদ আলী, মহিরউদ্দিন ও আজাহার আলীসহ অনেকে। তারা জানানেল নানা সমস্যার কথা। সুপেয় পানি সমস্যার কথায় তারা বললেন, ২০০২ সালে তাদের জন্য ৪টি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স’াপন করে দেয়া হলেও তার মধ্যে ৩ টি নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামত করার কোন উদ্যোগ নেই। আশ্রয়ন প্রকল্পের কাছে একটি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। সরকার সেটিকে জাতীয়করণ করেছে। সেখানে ৪ জন শিক্ষক ও প্রায় দেড় শতাধিক জন শিক্ষার্থীর রয়েছে। টিনের ছাপড়া আর বেড়ার স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার আলো জ্বেলে গেলেও সরকারিভাবে বিল্ডিং হয়নি ।
১৭ বছর আগের তৈরি টিনের ঘেরা ও ছাউনি ব্যারাকে মরিচা ধরেছে। টিনের নাট-বোল্ট নষ্ট হয়ে গেছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের রাসত্মা কাঁচা হওয়ায় যাতায়াতের অসুবিধাও রয়েছে তাদের। পুকুর দু’টি দীর্ঘ দিনেও সংস্কার না হওয়ায় ময়লা মাটিতে ভরে গেছে। সরকারি সহযোগিতায় পাওয়া ১০ হাজার টাকার ব্যাংক ঋণে এখন আর কোন কাজ হচ্ছেনা। ব্যাংক ঋনের পরিমান বৃদ্ধি না করা হলে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানালেন তারা। তারা পালি কলে গ্রাম পাহারা করে থাকেন। ইতোপূর্বে এক-দু’দিন পরপর পুলিশ আসলেও এখন আর আসেনা এমন অভিযোগও করলেন তারা।
আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশের বিজন বিলের উপর একটি ব্রীজ হলে আপাদে-বিপদে দ্রম্নত তেরঘোরিয়া গ্রামবাসীর সহযোগিতা তারা পেতেন এমন দাবি তাদের। এছাড়াও তাদের দাবি ঘর সংস্কার, প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মান ও পুকুর ২টি পুনঃখনন, স’ায়ী কবরস’ান, রাসত্মা ও বাথরম্নম সংস্কার এবং নিরাপদ পানির।
শুধু এটাই শেষ নয়। আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ষাটোর্ধ কয়েকজন জানালেন, এক যুগেরও বেশি সময় আগের পাওয়া ২০ ফুট দৈর্ঘের ও ৯ ফুট প্রসে’্যর একটি কক্ষে বর্তমানে লোকসংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে। এখানে কিভাবে বাস করা সম্ভব। ছেলেদের বিয়ে হয়েছে। ঘরে বউ এসেছে। এখন কষ্ট অনেক বেড়ে গেছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের এমন অনেকের দাবি গত ১৭ বছরে সনত্মান বেড়েছে; তারা বড় হয়েছে। কিন’ কোন ঘর বাড়েনি।
তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পবাসীর অনেকের দাবি, পাশ্ববর্তী তেরঘোরিয়া খড়ের মাঠে প্রায় ৭শ’ বিঘা খাস জমি প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। সরকারি প্রচেষ্টায় ওই জমি উদ্ধার করে আশ্রয়ন প্রকল্পবাসীর মধ্যে বন্দোবসত্ম দেয়া হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে তাদের বসবাসের সমস্যা দূর হবে।
কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম জানান, তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দ্রম্নত আশ্রয়ন প্রকল্পের রাসত্মা ও পুকুর ২টি সংস্কার এবং সুপেয় পানির ব্যবস’া করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টির জন্য একটি ল্যাট্রিন ইতোমধ্যে করা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈনুল হাসান জানান, তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সমস্যা আছে। তবে রঘুনাথপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মত নয়। নানা সমস্যার কারণে রঘুনাথপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের অনেক পরিবার আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে গেলেও তেরঘোরিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সে ধরণের সমস্যা নাই। যে কারণে তাদের সকল পরিবারই বর্তমান আছেন। তার পরও তাদের সমস্যাগুলো সরকারিভাবে সমাধান হবে।

 

Check Also

বিজিবি

‘বিজিবি এখন জলে, স্থলে ও আকাশপথে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জন করেছে : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের বীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *