Saturday , December 5 2020
Breaking News
Home / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / মেহেরপুরে সাহাব উদ্দীন উদ্ভাবিত ‘এটিএস’ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন

মেহেরপুরে সাহাব উদ্দীন উদ্ভাবিত ‘এটিএস’ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন

Meherpur picKbdnews: শখের মোটর সাইকেল নিয়ে কতই না ভাবনা। বাইরে কোথাও রাখলে মনের মধ্যে চুরির ভয় তাড়িয়ে বেড়ায়। অতিরিক্ত তালা (এক্সট্রা লক) লাগিয়েও অনেক সময় মোটর সাইকেল চুরি ঠেকানো যায় না। প্রচলিত যে তালা (লক) রয়েছে তা ভেঙ্গে চুরি হচ্ছে হরহামেশাই। তাই মোটর সাইকেল মালিকদের দুঃশ্চিন-ার শেষ নেই। তবে এবার মোটর সাইকেল চুরি ঠেকাতে আবিষ্কৃত হয়েছে ‘এন্ট্রি থিপ সিস্টেম’ (এটিএস)। এটিএস ব্যবহার করলে বিকল্প চাবি দিয়ে মোটর সাইকেল চালু (স্টার্ট) করা সম্ভব নয়। ‘এটিএস’ ইতোমধ্যে ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিষ্ময়কর এই ডিভাইসটি আবিষ্কার করেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের তরম্নণ বিজ্ঞানী সাহাব উদ্দীন। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ঢাকার উত্তরা মোটসের্র অধীনে গবেষণার পর সমপ্রতি সারা দেশে বাজারজাত শুরম্ন হয়েছে সাহাব উদ্দীনের ‘এটিএস’।
‘এটিএস’ ব্যবহার বিষয়ে সাহাব উদ্দীন বলেন, একটি ছোট্ট ডিভাইস মোটর সাইকেলের গোপন স’ানে বসানো হয়। ‘আরএফআইটি’ কাডের্র সঙ্গে যুক্ত আরেকটি এন্টেনা ডিভাইস থাকে গাড়ির স্টার্ট লকের পাশে। চাবি রিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রোগ্রামিং করা ডিভাইস। চাবি অন করে দু’টি ডিসাইস পান্স করে স্টার্ট করতে হয়। পান্স করা ছাড়া কোন অবস’ায় মোটর সাইকেল স্টার্ট হবে না। অপরদিকে অন্য কোন চাবি কিংবা ডিভাইস দিয়ে কেউ চেষ্টা করলেও স্টার্ট করতে পারবে না। বরং মোটর সাইকেলের হর্ণ অনবরত বাঁজতে থাকবে। প্রতিটি ‘এটিএস’ কম্পিউটরে ভিন্ন ভিন্ন গোপন প্রোগ্রাম কোডযুক্ত। তাই কোনভাবেই একটি দিয়ে অন্যটি পান্স কিংবা অন করা যাবে না। ফলে চোরদের পক্ষে মোটর সাইকেল স্টার্ট করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সাহাব উদ্দীন মহাম্মদপুর গ্রামের রহমতুল্লাহর ছেলে। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতির প্রতি ঝোঁক ছিলো। এটা-ওটা নাড়াচারা করাই ছিলো তার অন্যতম কাজ। ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে বেকার তরুণ সাহাব উদ্দীন নিজ বাড়িতে বসে মোবাইল ডিভাইস দিয়ে মোটর সাইকেল চুরি প্রতিরোধী লক আবিষ্কার করেন। আবিষ্কারের সংবাদ দৈনিক মাথাভাঙ্গা ও একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হয়। এতে বাংলাদেশের স্বনামধন্য অটোমোবাইল কোম্পানী উত্তরা মোটসের্র চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের নজরে পড়েন সাহাব উদ্দীন। লক নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি সাহাব উদ্দীনকে সুযোগ করে দেন। একজন গবেষক হিসেবে তখন থেকেই তিনি কাজ শুরু করেন। গবেষণার পথ চলায় মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ির নিরাপত্তা ও উন্নত লাইট আবিষ্কার করে সফলতা অর্জন করেছেন সাহাব উদ্দীন। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় পর্যায়ের পদকও জুটেছে তার ভাগ্যে। পর পর তিন বছর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় দেশসেরা উদ্ভাবক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ব্যাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এটিএস এবং এসটিপি’র পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন। এখন এর একমাত্র সত্ত্বাধিকারী সাহাব উদ্দীন। উত্তরা মোটসের্র চেয়ারম্যান ও মিডিয়াকর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাহাব উদ্দীন বলেন, নিজের উদ্ভাবিত ডিভাইস নিয়ে ব্যবসায় নেমেছি। ডিভাইস বাজারজাত করার জন্য উত্তরা মোটসের্র চেয়ারম্যান সুযোগ করে দিয়েছেন। উত্তর মোটসের্র নামেই সারা দেশের নিজস্ব সব শো-রম্নমে পাওয়া যাচ্ছে এটিএস। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার টাকা।
এদিকে সাহাব উদ্দীনের ‘এটিএস’ এবং ‘এসটিপি’ ব্যবহার সমপ্রতি পর্যবেক্ষণ করে মেহেরপুর পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান সনেত্মাষ প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোটর সাইকেল মানুষের শখ ও অতি প্রয়োজনীয় বাহন। তাই এর চুরি নিয়ে চিনত্মা থাকে। চুরি প্রতিরোধে ‘এটিএস’ সিস্টেম সময়োপযোগী উদ্ভাবন। মোটর সাইকেলে ‘এটিএস’ স’াপনের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করা হচ্ছে।
‘এটিএস’ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাহাব উদ্দীন বলেন, মোটর সাইকেলের জন্য বাজারে প্রচলিত লকে প্রচুর ব্যাটারি চার্জ ফুরায়। ব্যাটারি দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন’ এটিএস’র পাওয়ার ব্যাটারি থেকে দেয়া হয়নি। তাই স্টার্ট লাইন অফ থাকলে ব্যাটারি চার্জ ফুরায় না।
লক উদ্ভাবনের পাশাপাশি আরেকটি ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন সাহাব উদ্দীন। যার নাম দিয়েছেন ‘এসটিপি’। ওই নামেই ডিভাইসটি বাজারজাত করছেন।
বর্তমান সময়ে বাজাজ মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকার মোটর সাইকেল আনত্মর্জাতিকভাবে অন লাইটে মার্কেটিং হচ্ছে। মোটর সাইকেল স্টার্ট করলেই হেড লাইট জ্বলে থাকে। যা আমাদের দেশের প্রচলিত সিস্টেমের সঙ্গে একেবারেই বিরক্তিকর। সাহাব উদ্দীনের উদ্ভাবিত ‘এসটিপি’ ডিভাইস দিয়ে হেড লাইট চালু ও বন্ধ করা যায়। এছাড়াও একটিমাত্র সুইচের মাধ্যমে ডান-বামের ইন্ডিকেটর জ্বালানো এবং একইসাথে চারটি ইন্ডিকেটর জ্বালানো সম্ভব। এই ডিভাইসটিও সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। উদ্ভাবন বিষয়ের প্রয়োজনে সাহাব উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ- ০১৭২৯-৪৯৫০৮৬।
মেহেরপুর জেলার অনেক মোটর সাইকেল মালিক ‘এটিএস’ স’াপন করেছেন। তাই এখন মোটর সাইকেল চুরি নিয়ে আর কোন ভাবনা নেই বলে জানালেন ব্যবহারকারীরা। যেখানে-সেখানে মোটর সাইকেল রেখে দুঃশ্চিনত্মা ছাড়াই কাজ করতে পারছেন মোটর সাইকেল মালিকরা।

Check Also

গাংনীতে পুলিশের অভিযানে ৬ জুয়াড়ী আটক

গাংনীতে পুলিশের অভিযানে ৬ জুয়াড়ী আটক

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  : মেহেরপুরের গাংনী থানা পুলিশ উপজেলার হোগলবাড়িয়া-মহাম্মদপুর গ্রাম থেকে ৬ জুয়াড়ীকে আটক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *