Saturday , November 28 2020
Breaking News
Home / খবর / গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ৩ জেলায় পাহাড় ধসে সেনা কর্মকর্তাসহ ৮৮ জন নিহত মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ৩ জেলায় পাহাড় ধসে সেনা কর্মকর্তাসহ ৮৮ জন নিহত মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে

 

সেনা কর্মকর্তাসহ

স্টাফরিপোটার/ চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান প্রতিনিধি : গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৪ সেনা কর্মকর্তাসহ ৫৪ জন, বান্দরবানে ১০ জন এবং চট্টগ্রামে ২৪ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনও মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে আছেন। গত সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, রাঙামাটি শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। রাঙামাটি সদরে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ ২৭ জন, কাপ্তাইয়ে ১৩ জন, কাউখালীতে ১২ জন ও বিলাইছড়িতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আহত ৫৬ জন ভর্তি রয়েছেন। টানা বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, রাঙামাটিতে গত সোমবার শুরু হওয়া বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে সেনা সদস্য, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
সেনা কর্মকর্তাসহ
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে ৬ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর আহমেদ, সিপাহী আজিজ, শাহীন, ল্যান্স কর্পোরেল আজিজ, সিপাহী মামুন। তারা রাঙামাটি সেনা রিজিয়নে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েক সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র। এছাড়া আহত ৫ সেনা সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তারা হচ্ছেন- সৈনিক আজমল, মামুন, ফিরোজ, মোজাম্মেল ও সেলিম। এদিকে আইএসপিআর বলছে ৪ জন সেনা সদস্য মহাসড়কে মাটি সরাতে গিয়ে মারা গেছেন।
সেনা কর্মকর্তাসহ
আরও জানা গেছে, টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। সদর, কাউখালী, বিলাইছড়ি, মানিকছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহত ৫৪ জনের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হচ্ছেন- রুমা আক্তার (২৫), নুর আক্তার (৩), হাজেরা (৪০), সোনালি চাকমা (৩০), ১ বছর বয়সী শিশু অমিয় কান্তি চাকমা, আইয়ুশ মলি্লক (২), চুমকি মলি্লক (২), লিটন মলি্লক (২৮), অজ্ঞাত (২২), মিন্টু ত্রিপুরা (৪৫), আবদুল আজিজ (৫৫), মিলি চাকমা (৫৫), ফেন্সি চাকমা (৪), ফাতেমা বেগম (৬০), মনির হোসেন (২৫), মো. ইসহাক (৩০), দবির হোসেন (৮৪), খোদেজা বেগম (৬৫), অজিদা খাতুন (৬৫), মংকাচিং মারমা (৫২), আশেমা মারমা (৩৭), শ্যামা মারমা (১২), ক্যাচাচিং মারমা (৭), কুলসুমা বেগম (৬০), বৈশাখী চাকমা (১০), লায়লা বেগমের (২৮) লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদের নাম পাওয়া যায়নি।
সেনা কর্মকর্তাসহ

এদিকে কাপ্তাই রাইখালীর কারিগরপাড়ায় নিহত ৪ জনের নাম তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন সোমবার রাঙ্গামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় ১ শিশু এবং কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারে ১ শিশু পাহাড়ের মাটি চাপায় মারা যায়। এছাড়া কর্ণফুলী নদীতে পড়ে ইকবাল নামের ১ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে টানা বর্ষণে বান্দরবানের কালাঘাটা এলাকায় ৩টি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে ৩ শিশুসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। গত সোমবার রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সেনা কর্মকর্তাসহ

বান্দরবানে পাহাড় ধস কালাঘাটের কবরস্থানের পাশে পাহাড় ধসে রেবা ত্রিপুরা (১৮) নামের ১ শিক্ষার্থী মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। জেলেপাড়ায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়েন মা-মেয়ে। তারা হলেন- কামরুন্নাহার ও সুফিয়া। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে দমকল বাহিনী। লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে ১ পরিবারের ৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তারা হলো- শুভ বড়ুয়া (৮), মিঠু বড়ুয়া (৬), লতা বড়ুয়া (৫)।

বান্দরবানে কুহালং ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার সম্বুনিয়াপাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মংকাউ খেয়াং (৫৫) মেম্রাউ খেয়াং (১৩) ও ক্যসা খিয়াং (৭)। এসময় চাইহ্লাউ (৩৫) ও সানু খেয়াং (১৮) নামে ২ জন আহত হয়েছেন।সেনা কর্মকর্তাসহ
বান্দরবান সদর থানার ওসি রফিক উল্লাহ জানান, বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় ৩টি পাহাড় ধসে পড়েছে। গত সোমবার রাতে শহর এলাকার কয়েক জায়গায় পাহাড় ধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মংকু চিং বলেন, হাসপাতালে আসা ৭ জনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছে। এছাড়া আরও ২৪ জনকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও বাঁশখালীতে পাহাড় ধসে শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর এবং ইসলামপুর ইউনিয়নে পাহাড় ধসে ২০ জন মারা গেছেন। রাঙ্গানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের সবার বিস্তারিত নাম ও পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
সেনা কর্মকর্তাসহ
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টায় চন্দনাইশের দুর্গম এলাকা দোপাছড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শামুকছড়িতে পাহাড় ধসে ১ শিশু এবং ছনবনিয়ায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- শামুকছড়ির শিশু মাহিয়া (৩), ছনবনিয়ার ২নং ওয়ার্ডের উপজাতি এলাকার সিনসাও কেয়াংয়ের স্ত্রী মোকা ইয়ং কিয়াং (৫০), কেলাও অং কেয়াংয়ের কিশোরী কন্যা মেমো কেয়াং (১৩) ও ফেলাও কেয়াংয়ের শিশু কন্যা কেওচা কেয়াং (১০)। এসময় আহত হয়েছেন ২ জন। তাদের বান্দরবান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- সানু কেয়াং (২১), শেলাও কেয়াং (২৭)। জেলার ডিসি মানজুরুল মান্নান জানান, রাঙামাটি সদরে ২ সেনা কর্মকর্তা ও ৬ সেনা সদস্যসহ ৫৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আহত ৫৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

 

Check Also

ফেরা-মাদকাসক্তি পূনর্বাসন কেন্দ্র

ডাঃ আব্দুল্লাহ’স চেম্বারের সৌজন্যে ফেরা-মাদকাসক্তি পূনর্বাসন কেন্দ্র ও ধুমকেতু আইডিয়াল স্কুলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

ছবি: শরিফ মাহমুদ কুষ্টিয়া থেকে শরিফ মাহমুদ :  ফেরা-মাদকাসক্তি পূনর্বাসন কেন্দ্র ও ধুমকেতু আইডিয়াল স্কুলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *