Friday , November 27 2020
Breaking News
Home / খবর / সড়কগুলো মাহিন্দ্রা অতুল ইজিবাইকের দখলে বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের সড়ক পথে ক্রমেই যান চলাচলের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে

সড়কগুলো মাহিন্দ্রা অতুল ইজিবাইকের দখলে বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের সড়ক পথে ক্রমেই যান চলাচলের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে

অযান্ত্রিক যান

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:  উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দ্রুত গতির ডিজেল চালিত মাহিন্দ্রা, অতুল, ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সার দখলে চলে গেছে খুলনা মহানগরীর সবগুলি সড়ক পথ। মহানগরীতে চলাচলকারী আদালতের ভাষায় অবৈধ এই যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। চলাচলকারী এসব যানবাহনের বৈধ লাইসেন্সতো নেই, কোন চালকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এমনকি চালকদের অধিকাংশেরই ন্যূনতম ট্রাফিক আইন জ্ঞানও নেই। আর কোন সংস’ার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় অনেকটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এসব যানবাহন। ফলে মহানগরীর সড়ক পথে ক্রমেই যান চলাচলের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। তবে চালকদের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের (কেসিসি,পুলিশ) পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ইজিবাইক আটক করে জরিমানা আদায় করা হলেও লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বা ট্রাফিক আইন বিষয়ে কোন প্রশিক্ষণ প্রদানে কোন সংস’াই এগিয়ে আসছে না।

এদিকে দীর্ঘ চেষ্টার পরও লাইসেন্স না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার যানবাহনের চালক। অনেকটা বাধ্য হয়েই মোটা অংকের চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে চালাতে হচ্ছে গাড়ি। লাইসেন্স না থাকার অজুহাতে এক শ্রেনীর প্রভাবশালী রাজনীতিক ও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ বানিজ্যের অন্যতম নেয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ধরনের যানবাহন। অভিজ্ঞজনদের মতে প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন এভাবে চলতে পারেনা। বিকল্প কর্ম সংস’ানের ব্যবস’া না করে চলাচল একবারে বন্ধ করে দেয়া যায়না। অবশ্যই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই গণপরিবহনকে আইন-কানুনের কাঠামো ও সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় মধ্যে আনা জরুরী বলে মনে করছেন অভিজ্ঞজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা শহরে দীর্ঘদিন থেকে রিকশা-ভ্যানের পাশাপাশি টুস্টক ইঞ্জিন বিশিষ্ট বেবিট্যাক্সি চলাচল করে আসছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় রিকশা-ভ্যানের চেয়ে একটু বেশি গতি সম্পন্ন ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক। সহজলভ্য ও আরামদায়ক বাহন হওয়ায় ইজিবাইক আসে- আসে- নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয় গণপরিবহন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বর্তমানে মহানগরীতে চলাচলকারী ইজিবাইকের সংখ্যা ১৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ২০১১ সালে ১৯২৫টি ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন। তবে আর্শ্চযের বিষয় হচ্ছে ইজিবাইক নামক এই গণ পরিবহনের বাকীগুলোর কোনো লাইসেন্স নেই। চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। এমনকি চালকদের ন্যূনতম ট্রাফিক আইন জ্ঞানও নেই। বৈধতা না থাকলেও সড়কে চলাচলে কোন বাঁধার মুখে পরতে হচ্ছে না বলেই ইজিবাইক চরম বেপরোয়া ভাবে চলতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। যানজটের পাশাপাশি অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে নগরবাসীকে চরম ভোগানি-র মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনিতেই ইজিবাইক যানজট যন্ত্রনায় কাতর নগরবাসী। এরই মধ্যে কয়েক মাস ধরে নগরীতে নতুন যুক্ত হয়েছে দ্রুত গতির ডিজেল চালিত মাহিন্দ্রা ও অতুল নামের ভারতীয় ত্রি-চক্রযান। এ যানটির গঠন অন্য তিনটি যানের চেয় চওড়া। এমনটি প্রাইভেট কারের চেয়েও মোটা।
সংশ্ল্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত ২০১১ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন যখন দুই হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করে তখন এ দুই হাজার লাইসেন্সের বিপরিতে নগরীতে চলাচল শুরু করে ৫ হাজারের অধিক ইজিবাইক। লাইসেন্স প্রদানের এক বছরের মাথায় মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে সেগুলির নবায়ন না করা এবং নতুন লাইসেন্স না দেয়ার সিদ্ধান- হয়। ফলে এক বছর পর নগরীতে চলাচলকারী সকল ইজিবাইকই হয়ে পড়ে লাইসেন্স বিহীন।
এদিকে, নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয় গণপরিবহন ইজিবাইকের ২৫ হাজার চালক ও মালিক পরেছেন উভয় সংকটে। কর্মসংস’ানের অভাবে পরিবারের শেষ সম্ভল দিয়ে একখানা ইজিবাইক কিনেছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। এছাড়া অধিকাংশ চালক সমিতির থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। কিন’ লাইসেন্স দিচ্ছে না সরকারের কোন সংস’া। ফলে স্বার্থন্বেষী একটি মহল এই সুযোগে চাঁদাবাজীর মহাৎসবে মেতে উঠেছে। লাইসেন্স না থাকায় ট্‌্রাফিক পুলিশের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন সমিতিতে অনর্-ভুক্ত হতে হচ্ছে চালকদের। আর সমিতির কর্তা ব্যক্তিদের ধার্য্যকৃত চাঁদার টাকা দেয়া সাপেক্ষ সড়কে চলাচলের অনুমতি মিলছে।
মোঃ ফরিদ, আমজাদ, আব্দুর রহীমসহ ১৭জন ইজিবাইক চালকের সাথে কথা হলে তাদের গাড়ির কোন লাইসেন্স নেই বলে স্বীকার করেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি-না জানতে চাইল প্রত্যেকের কাছ থেকে না উত্তর আসে। ট্রাফিক আইন জানেন কি-না জানতে চাইলেও মাত্র ২ জন অল্প কিছু জানেন বলে জানান। সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ট্রাফিক আইনের জ্ঞান ছাড়া কিভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন জানতে চাইলে এক কথায় বলেন, ‘ম্যানেজ করে।’ ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ ‘আমরা লাইসেন্স বা রুট পারমিটের জন্য নিয়মিত চেষ্টা করছি। তাছাড়াও বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছি। কিন’ অনুমতি না পাওয়ায় পুলিশসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে চলাচল করতে হচ্ছে।’ এই ম্যানেজ প্রথা থেকে আমরা বেড়িয়ে আসতে চাই। আমাদের বৈধতা দেয়া হলে সরকারের ঘরে রাজস্ব বাড়বে অন্যদিকে চাঁদাবাজদেরও দৌরত্ব কমবে।‘ ইজিবাইক চালকরা বলেন, আমরা অনেকই বিভিন্ন সমিতি থেকে লোন বা উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে এক একটি গাড়ি কিনেছি। যদি চলাচল করতে না দেওয়া হয় তাহলে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।’
সংশ্ল্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে উচ্চ আদালত (হাই কোর্ট ) খুলনা মহানগরীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক-মাহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা, অতুল, নসিমন-করিমন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে। একই সাথে নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাস-বায়নের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টাফদের নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন’ উচ্চ আদালতের রুল জারির দীর্ঘ আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও এখনও এই আদেশে বাস-বায়ন হয়নি খুলনায়। বরং উচ্চ আদালতের ওই আদেশকে পাশ কাটিয়ে সুবিধাভোগী এক শ্রেণীর স্বার্থে মহাসড়কসহ খোদ শহরের মধ্যেই ইজিবাইক, অতুল, মাহিন্দ্রা চলাচলের ব্যবস’া করা হয়েছে। ফলে শহরের ডাকবাংলো মোড়, ফেরিঘাট, পুরনো যশোর রোড, খানজাহান আলী রোড, শিববাড়ি, নতুন রাস-া, দেলৈতপুর, ময়লাপোতা, সাতরাস-া, রূপসা, গল্লামারীসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধ এই যানবাহন চলাচল করছে।

বি এম রাকিব হাসান,
খুলনা ব্যুরো:
০২-০৪-১৭

Check Also

খুলনায় শীতের আগমনী বার্তায়

খুলনায় শীতের আগমনী বার্তায় গরম কাপড় কেনার হিড়িক

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:  খুলনায় শীতের আগমনী বার্তার কড়া নাড়া শুরম্ন হয়েছে। উৎসব আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *