Tuesday , October 20 2020
Breaking News
Home / আরও... / ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে প্রধানমন্ত্রী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে প্রধানমন্ত্রী

মৃত্যু বার বার আমার পিছু ছুটেছে
১৮ ‍ৃজ্বট
স্টাফ রিপোর্টার  : মৃত্যু বারবার আমার পিছু ছুটেছে কিন্তু আমি ভীতু ছিলাম না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের মতো আর ঘটনা যেন না ঘটে সেটাই আমরা চাই। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ট্রাকের ওপর জয় বাংলা বলে শেষ করে হাত থেকে মাইক্রোফোন রাখার পর পরই গ্রেনেড মারা শুরু হয়ে যায়। একটার পর একটা মারতেই থাকে। দিবালোকে ?এভাবে গ্রেনেড মারা কখনও দেখিনি। গতকাল রোববার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে’ অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নিহতদের প্রতি মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন জাতির জনক। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করেনি, যারা বাঙালির অস্তিত্ব বিশ্বাস করেনি তাদের দোসররাই জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, আগস্ট মাস আমাদের কাছে এমনিই শোকের মাস। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়।

২১ আগস্টের ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটালীপাড়ায়ও আমাকে মেরে ফেলতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যিস, এক চা দোকানির কারণে এ বোমা থেকে বেঁচে যাই। তিনি বলেন, একটার পর একটা গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তারা ১৩টি গ্রেনেড মেরেছে। আমার গায়ে রক্ত দেখে অনেকে ভেবেছে আমি আহত। আল্লাহর রহমতে আমার শরীরে কোনো স্পিস্নন্টার লাগেনি। হানিফ ভাইয়ের গায়ে লাগে, তিনি রক্তাক্ত হন।

এ সময় গ্রেনেডের ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছিলো না। চলে যাওয়ার সময় আমার গাড়িতে গুলিও করা হয়েছিল। তবে বুলেটগ্রুফ গাড়ি হওয়ায় গুলি লাগেনি। গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের দিন সমাবেশের আশপাশে পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কোনো নিরাপত্তাবলয়ও ছিল না। প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ঐ হামলায় আমরা বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মীকে হারাই। আহত হন ৫ শতাধিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং তাদের মদদদাতাদের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদকে সমূলে উপড়ে ফেলে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত করব-এটাই আমার প্রত্যাশা।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচারকাজ চলছে। সপরিবারে জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। জাতীয় ৪ নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্টের দিন প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এ হামলার পর আরও অনেককে হারিয়েছি। অনেকে স্পিস্নন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন। যতদিন যাচ্ছে তারা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। এতো বড় একটি ঘটনা। যেখানে বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়েছে। বিএনপি নেত্রী উল্টো আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে, আমাকে একটা নিন্দা প্রস্তাব করতে দেয়া হয়নি।

আল্লাহ কিছু মানুষকে কিছু কাজ দিয়ে পাঠান। তা না হলে আমি রক্ষা পেতাম না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সমগ্র দেশে একইসাথে আধা ঘণ্টায় ৫শ স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়।

ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৭ সালে ইমারজেন্সি সরকার আমাকে গ্রেফতার করে। সমস্ত আঘাত আসে আমার ওপরে। শুধু মামলা নয়, একটার পর একটা ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তখন ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দেশের অনেকে প্রতিবাদ করেছেন। ফলে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দারিদ্র্য বিমোচনে বহুমুখী কর্যক্রম নিয়েছি। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দূর করতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি।

গোটা বিশ্বের অস্থিরতার কথা উল্লেখ তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমেরিকার মতো জায়গার মসজিদের ইমাম নামাজ পড়ে ফিরছেন, তখন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সারা বিশ্বে ঘটে যাচ্ছে। জনগণের শক্তি হচ্ছে বড় শক্তি, সমাজের সব স্তরের মানুষ যদি রুখে দাঁড়ায়, তবে এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ঘটনা থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

Check Also

ধর্ষণ

ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে মানুষ।

স্টাফ রিপোর্টার :   নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্রমেই মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ধর্ষণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *