Tuesday , August 11 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আইন ও বিচার / অবসরের পরে লেখা রায় গ্রহণ করেননি সুপ্রিমকোর্ট

অবসরের পরে লেখা রায় গ্রহণ করেননি সুপ্রিমকোর্ট

স্টাফ রিপোটার: অবসরের পরে লেখা আপীল বিভাগের অবসপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ১৬১টি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনে ৭টি রায় গ্রহণ করেননি সুপ্রীমকোর্ট। এই ১৬৭টি মামলাই পুনঃশুনানি হচ্ছে বলে সুপ্রীমকোর্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রীমকোর্ট।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাফ জানিয়ে দেন অবসরের পর বিচারপতিদের তিনি আর রায় লিখতে দেবেন না। এরপর শুরু হয় বিতর্ক। সবচেয়ে আলোচনায় আসে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর সাথে রায় লেখা নিয়ে প্রধান বিচারপতির দ্বন্দ্ব। ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তিতে জানান, অবসর গ্রহণের পর রায় লেখা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী। সিদ্ধান্তে অটল রইলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

এরপর তীব্র সমালোচনায় ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শামুসুদ্দিন চৌধুরী ৬৫টি রায় ও নথি জমা দেন। ওই দিন তিনি আর কোনো রায় তার হাতে নেই বলে দাবি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানায়, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী যেসব রায় লিখে জমা দিয়েছিলেন তার অনেক কিছুই অস্পষ্ট।

একই সাথে শামসুদ্দিন চৌধুরী যে বেঞ্চে ছিলেন সেই বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা তাতে সাক্ষর করেননি। আর তাই এসব মামলা পুনরায় শুনানির জন্য দিন ধার্য হয়েছে। বিচার ব্যবস্থায় নজির বিহীন এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশীদ। সাবেক অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমানও বলছেন প্রধান বিচারপতির বিচার ব্যবস্থার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানিয়েছে, এসব মামলা নতুন করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় উঠেছে। আগামী ২ মে সোমবার থেকে শুনানি শুরু হবার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো আগামী সোমবারে আপীল বিভাগের দুটি বেঞ্চে কার্যতালিকায় পুনঃশুনানির রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপীল বিভাগের ১ নম্বর বেঞ্চে রয়েছে ১০৭টি মামলা এবং বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্্হাব মিয়ার নেতৃত্বাধীন আপীল বিভাগের ২ নম্বর বেঞ্চে ৬২টি মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামুসুদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি প্রতিহিংসার বশে এই কাজ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানিয়েছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হকও রায় না লেখা ৬টি নথি ফেরত দিয়েছেন।

তবে ফেরত দেননি চূড়ান্ত রায় হওয়া রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রমের নথি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাইকোর্ট বিভাগেও এ ধরনের নজরাদারি বাড়ানো উচিত। তা হলে অবসরের আগেই রায় লেখার প্রবণতা আরো বাড়বে।

এদিকে, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে সকল বিচারপতিই অবসরের পরে রায় লিখেছেন। তাদের রায়তো বহাল আছে। এখন আমরা রায় লেখার পর সেগুলো গ্রহণ করা হলো না। তিনি বলেন, এমন যদি হতো আমরা চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় বলা হতো অবসরের পর রায় লেখা যাবে না, সেটাও একটা বিষয় ছিলো। তবে প্রধান বিচারপতি হুট করে একটা সিদ্ধান্ত জারি করলেন। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী ও সংবিধান পরিপন্থী।

এসব মামলায় রায় ঘোষণার পর আবারও পুনঃশুনানির উদ্যোগ নেয়ায় বিচারপ্রার্থীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হবে মনে করেন আইনজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নিষ্পত্তিকৃত এসব মামলার শুনানিতে বিচারপ্রার্থীদের যেমন অর্থের অপচয় হবে, তেমনি আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সময়ও নষ্ট হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের এক অক্টোবর আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। অবসরে যাওয়ার সময় ১৬১টি মামলার রায় লেখার দায়িত্ব ছিল এই বিচারপতির। এসব মামলা তার অবসরে যাওয়ার আগেই আপিল বিভাগ বিভিন্ন সময়ে শুনানি গ্রহণ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত আদেশও জানিয়ে দেন। শুধু পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ বাকি ছিল। মামলাগুলোর রায় অনেকদিন তিনি না লিখে কালক্ষেপণ করছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা গত ১৭ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে অবসরের পরে রায় লেখাকে সংবিধানপরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। ঐ বাণীতে তিনি বলেন, কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন সময় ধরে রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধানপরিপন্থী।

Check Also

মোল্লাহাটে বঙ্গমাতা

মোল্লাহাটে বঙ্গমাতার জন্মদিন পালিত

মিয়া পারভেজ আলম :  “বঙ্গমাতা ত্যাগ ও সুন্দরের প্রতীক” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতির জনকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *