Thursday , October 1 2020
Breaking News
Home / খবর / দুর্বল পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম

দুর্বল পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম

ষ্টাফরিপোটার : জনসংখ্যা বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা। এই মূল সমস্যার শাখা-প্রশাখা হিসেবে অন্যান্য সমস্যা মানুষের জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। বাংলাদেশকে করে তুলেছে বসবাস অযোগ্য। এসব সমস্যার কারণে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে চরমভাবে। মানুষের মানবিক গুণাবলিও কর্পুরের মতো উবে যাচ্ছে দিন দিন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার কর্মসূচি ও সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম যতখানি জোরদার ও শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল তার কিছুই হয় নাই। মনে হয় সরকার বা সরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এদিকে নজর দেয়ার সময় পান না। পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

গত তিন বছরে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে প্রজনন হার প্রায় একই আছে। বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার শতকরা ৫৫ দশমিক ৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে প্রজননক্ষম সকল দম্পতি পরিবার পরিকল্পনার কোনো না কোনো পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের হারও তুলনামুলকভাবে অনেক কম। শতকরা ৫ দশমিক ৭ ভাগ স্থায়ী এবং ৮ দশমিক ৬ ভাগ দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ করছেন। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের পদ্ধতি গ্রহণের হার এখনও অনেক কম। শতকরা ৫ দশমিক ২ ভাগ পুরুষ স্থায়ী এবং অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।

গতকাল বাংলাদেশে জননীতি ও স্বাস্থ্য জরিপের (বিডিএইচএস) একটি প্রতিবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়, গত দুই দশকে বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ৬৫ শতাংশ কমেছে। অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তানধারণকারী কিশোরীর সংখ্যা কিছুতেই কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। এতে কিশোরী বয়সে যারা মা হচ্ছে, তাদের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। আর শিশুমৃত্যুর হার জাতীয় গড়ের প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ বেশি। বিশ্বের যেসকল দেশে কিশোরীদের মধ্যে গর্ভধারণের হার বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এদেশের মহিলাদের প্রায় অর্ধেকের বয়স বিয়ের সময়ে ১৮ বছরের কম থাকে। আর শতকরা ৫৮ ভাগ ২০ বছর বয়সের আগেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়। এ বয়সের জন্য যথাযথ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ অপর্যাপ্ত।

ম্যালথাসের তত্ত্ব মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে আর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ম্যালথাসের তত্ত্বকেও হার মানিয়েছে। মাত্র চার দশকের মাথায় দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে আড়াই গুণেরও বেশি। একদিকে জনসংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে, অন্যদিকে আবাদি জমি ক্রমাগত হরাস পাচ্ছে।

বর্তমানে দেশের সক্ষম দম্পতির ৫৫ দশমিক ৮ ভাগ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষদের এমন নগণ্য হার দেশের জনসংখ্যা ক্ষৃদ্ধি রোধে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারের উচিত হবে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরুষের অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

গত এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ২২ লাখ এবং বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ। এ ব্যাপারে স্বাধীনতার রূপকার বিশিষ্ট রাজনৈতিকবিদ সিরাজুল আলম খান বলছেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি আশঙ্কাজনক এবং এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। আমাদের খাদ্য ঘাটতি সর্বজনবিদিত। দীর্ঘদিন ধরে আমরা খাদ্যশস্য আমদানিকারক দেশ। অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ গড়ে প্রায় ৩০.৪৭ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য আমদানি করে থাকে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ কমছে, ফলে দাম বাড়ছে। এ বিরাট জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তাই খাদ্য নিরাপত্তার হুমকিটি দেশের জন্য বড় অশনি সংকেত।

Check Also

গাংনীতে লাইসিয়াম

গাংনীতে লাইসিয়াম বিদ্যালয়ে সমস্যা সমাধানে উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম: মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের চৌগাছা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইংলিশ ভার্সন লাইসিয়াম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *