Thursday , October 1 2020
Breaking News
Home / খবর / কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর ভাঙন আতঙ্কে

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর ভাঙন আতঙ্কে

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের শুকনো মৌসমেও দুধকুমার নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, আবাদি জমি। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ জনবসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশ ও পার্শ্ববর্তী বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের।

এলাকাবাসীরা জানায়, কয়েক বছর ধরে নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের কালিগঞ্জ, কাচিরভিটা, কুমরিয়ার পাড়, বলদের ভিটা, উত্তর ওয়াবদা, শালমারা ও ধনীর ভিটাসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামে দুধকুমার নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে করে মসজিদ, মাদরাসা, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক বছরে সহস্রাধিক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে কালিগঞ্জ বাজার, কালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, শালমারা দাখিল মাদরাসা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

কালিগঞ্জ ইউনিয়নের ধনীর ভিটা গ্রামের মমিন উদ্দিন জানান, আমার জীবদ্দশায় ৩ বার বাড়ি ভেঙেছে। বর্তমানে যে জায়গায় বাড়ি করে আছি সেখানেও ভাঙন ধরেছে। মনে হয় সেখানেও আর থাকা যাচ্ছে না। তাই সরকারের নিকট আমার আকুল আবেদন, সরকার যেন আমাদের এই নদী ভাঙনের হাত থেকে বাঁচায়।

কুমরিয়ার পাড় গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র রায় জানান, বাবা আমার অনেক জমাজমি ছিল। সব এই নদী খেয়ে ফেলেছে। সরকার সব জায়গায় কাজ করলেও আমাদের এই গ্রামে নদী শাসন করছে না। আমার ছেলেরা এখন দিনমজুরি দিয়েও ভাত পায় না। আমি আমার এই শেষ বয়সে নদীভাঙা বন্ধ দেখতে চাই বাবা। তোমরা এ উপকারটুকু করো। কালিগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ওয়াবদা পাড়ের বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, হামার থাকার জায়গা নাই। বাঁধ রাস্তাত থাকি। শেখ হাসিনা মায়ের কাছে হামার আবেদন শেখ হাসিনা যেন হামার নদীটা বান্দি দেয়।

কাচির ভিটা এলাকার কুলসুম বেগম জানান, নদী হামার সব শেষ করে দিছে বাবা। বাড়ি-ঘর, জমিজমা সব কিছু। থাকার জায়গা নাই। মানুষের জায়গায় কোনো রকমে ধাপড়ি ঘর তুলি আছি। সরকারের নিকট হামরা আর কিছুই চাই না। সরকার যেন হামার নদীটা ঠিক করি দেয়। কালিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম মিয়া জানান, দুধকুমারের ভাঙন রোধে বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন মহলে লেখালেখি করেছি, দেখা করেছি।

কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। গত এক বছরে আমার ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ তাদের সব কিছু হারিয়ে পথে বসেছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর উপবিভাগ-৩ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমানের সাথে অফিসে পর পর তিন দিন দেখা করতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, দুধকুমার নদীটি কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরে হলেও এটি লালমনিরহাট জেলার আওয়াতায়। প্রায় সময় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে কাজ থাকায় প্রতিদিন যেতে পারি না। নদী ভাঙন রোধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কালিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি স্টিমেট সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ১ কোটি টাকার অনুমোদন পেয়েছি। তবে বরাদ্দ এখনো পাইনি। বরাদ্দ পেলে নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Check Also

গাংনীতে লাইসিয়াম

গাংনীতে লাইসিয়াম বিদ্যালয়ে সমস্যা সমাধানে উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম: মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের চৌগাছা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইংলিশ ভার্সন লাইসিয়াম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *