Thursday , October 1 2020
Breaking News
Home / অর্থনীতি / মশক নিধনে ব্যর্থ হচ্ছে কেসিসি

মশক নিধনে ব্যর্থ হচ্ছে কেসিসি

  মশক নিধনে ব্যর্থ হচ্ছে কেসিসি

খুলনা প্রতিনিধি

কোটি টাকা ব্যয় করেও মশক নিধনে কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। ফলে মহানগরীতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মহানগরী খুলনার বাসিন্দারা। কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। রাত বা সন্ধ্যায়ই নয় দিনের বেলায়ও এ অবস্থা থেকে তারা পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

নাগরিক নেতার অভিযোগ, নিম্নমানের ওষুধ কেনা, অনিয়ম, ড্রেন অপরিষ্কার রাখা, মশার উপত্তি স্থলে সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার না করা ও জবাবদিহিতার অভাবে নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়ছে। অবশ্য কেসিসি’র কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত অপরিষ্কার ড্রেন ও নগরবাসীর অসচেতনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সি শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মশক নিধনে কর্পোরেশন ২ কোটি খরচ করে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে খরচ করে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। এসব টাকা ব্যয় করে লার্ভিসাইড, এডাল্ট্রিসাইড, লাইট ডিজেল (কালো তেল), মেশিন মোরামত, বিস্নসিং পাউডার ইত্যাদি ক্রয় করে কেসিসি। চলতি বছর মশক নিধনে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা দিয়ে ইতোমধ্যে ২ হাজার লার্ভিসাইড, ১০ হাজার এডাল্ট্রিসাইড, ৯ হাজার লাইট ডিজেল (কালো তেল), মেশিন, ৪ হাজার কেজি বিস্নচিং পাউডার কেনা হয়েছে এবং ৭ হাজার লিটার এডাল্ট্রিসাইড, ১২শ লিটার লার্ভিসাইড ৪ হাজার লাইট ডিজেল কেনার প্রস্তুতি চলছে। প্রতি বছর মোটা অঙ্কের এতো অর্থ ব্যয় করেও নগরীতে মশার প্রকোপ কমিয়ে আনতে মশক নিধনে কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)।

নগরীর আমতলার বাসিন্দা মফিজ ও ফিরোজ জানান, মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। মশার অত্যাচারে কোনো কাজ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাতে বেশি অশান্তি সৃষ্টি করছে। মশার অত্যাচারে নগর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

টুটপাড়ার বাসিন্দা কিসমত জানান, ঘরে-বাইরে সর্বত্র মশা। দিন নেই, রাত নেই সব সময় মশার উৎপাত। ছেলেমেয়রা মশার কারণে সঠিকভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না।

নগরীর আমতলার বাসিন্দা এইচএসসির পরীক্ষার্থী শামীম আহমেদ জানান, ইদানীং মশা খুব বিরক্ত করছে। রাতে তো মশা বিরক্ত করছেই আর দিনের বেলাও মশার কয়েল না জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতে পারছি না।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উজ-জামান বলেন, নিম্নমানের ওষুধ ক্রয় ও অনিয়ম, অপরিষ্কার ড্রেন, মশার উপত্তি স্থলে সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার না করা ও জবাবদিহিতার অভাবে নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়ছে।

কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান জানান, সেফটি ট্যাংকের আউট-লেট উন্মুক্ত রাখা, ড্রেনে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ঝোপঝাড় বা ফুলের বাগান পরিষ্কার না করার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। তবে অন্যতম কারণ অপরিষ্কার ড্রেন ও নগরবাসীর অসচেতনতা। যার কারণে মশা নিধন কার্যক্রম ফলপ্রসূ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকলকে সচেতন হতে হবে। ড্রেনে বর্জ্য ফেলা যাবে না, ঝোপঝাড়, ফুলের বাগান ও খাল বা পুকুর কচুরিপানা পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলে মশা নিয়ন্ত্রয়ণে রাখা সম্ভব।

 

Check Also

বেসরকারি মেডিকেলে

বেসরকারি মেডিকেলে ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক রাখার শর্তে আইনের খসড়া অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার :    বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক রাখতে হবে। ২৫ শতাংশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *